জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানজুড়ে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও দেশব্যাপী ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউন’ সংক্রান্ত ভাইরাল খবরকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছে সরকার। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট সামাল দিতে সরকার ‘স্মার্ট লকডাউন’ ও ব্যয় সংকোচনের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব বাজার ও শপিং মল রাত সারে ৯টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হতে পারে। পাশাপাশি বিয়েবাড়ির মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২০০ জন অতিথি সীমা নির্ধারণ এবং খাবারে ‘এক পদ’ নীতি চালুর কথাও বলা হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করতে হবে বলেও প্রস্তাব রয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে হাইব্রিড কাজের মডেল চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে অফিস এবং দুই দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হতে পারে। অফিসে উপস্থিতি ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে রোস্টার পদ্ধতি চালুর কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সকাল সার ১০টার আগে সরকারি অফিসে এসি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, সরকারি কর্মীদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ভাতা কমানো এবং সরকারি গাড়ির অপব্যবহারে কড়া জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানির মূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৩২১ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৩৩৫ রুপির বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে চাপ সৃষ্টি করছে এবং আমদানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তথাকথিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে প্রতি সপ্তাহান্তে দেশব্যাপী ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউন’ কার্যকর হবে। এতে বলা হয়, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়ে রবিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে।
তবে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফ্যাক্ট-চেক অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে, ভাইরাল ওই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। একই সঙ্গে জনগণকে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

