ইরানের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগ তুলে চীন ও হংকংভিত্তিক ৯টি কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক ঘোষণায় এ তথ্য জানায়।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র, কাঁচামাল এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে শাহেদ সিরিজের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সরবরাহে তাদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, তেহরানের সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন ঠেকাতে তারা আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এ পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রেট এরিকসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যায়।
এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে ড্রোন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং দেশটি প্রতি মাসে হাজার হাজার ড্রোন তৈরি করতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা এখনো সীমিত পর্যায়ের। কারণ, ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী বড় চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এখনো সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন