মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ জবাব প্রত্যাখ্যান করার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান জানিয়েছে, পাকিস্তান এখনো দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে সোমবার (১১ মে) ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতিটি লাইফ সাপোর্টে আছে, যেখানে ডাক্তার এসে বলছেন—‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ।’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে স্বল্পমেয়াদি মার্কিন নৌ-অভিযান পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, এটি একটি বোকামিপূর্ণ প্রস্তাব, কেউই এটি গ্রহণ করবে না। যদিও ওবামা বা বাইডেন হয়তো করতেন। তারা যা করেছে, তা আরও খারাপ ছিল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের কার্যত কোনো কার্যকর বিমান বাহিনী নেই।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও ইসহাক দারের আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সৌদি আরব পাকিস্তানের ‘গঠনমূলক ভূমিকার’ প্রশংসা করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূত জ্যাঁ আরনল্টও ইসহাক দারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়।
‘মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এখনো পাকিস্তান’
ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা থেকেও বোঝা যাচ্ছে, তেহরান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তেহরান-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয়, যা ইরানি কর্মকর্তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরিচালিত বলে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া আরাঘচি নেদারল্যান্ডস ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথকভাবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক জবাবে তেহরান ‘ন্যায্য দাবি’ জানিয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের অবসান, দেশের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
বাকাই বলেন, আমরা কোনো অতিরিক্ত ছাড় চাইনি। আমরা শুধু ইরানের ন্যায্য অধিকার দাবি করেছি।
তিনি আরও জানান, উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
বাকাইয়ের ভাষায়, ‘আমাদের মধ্যস্থতাকারী এখনো পাকিস্তান এবং তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হচ্ছে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, অন্যদিকে চাপ ও উত্তেজনাও বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকাতে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখছে।

