লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আবারও ঘটল জরুরি স্লাইড দুর্ঘটনা। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বিএ২১৭, যা লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল, সেটি এক নতুন কেবিন ক্রুর ভুলের কারণে প্রায় ৬ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৬ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান ফ্লাইট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
পোস্টে তিনি লিখেন, বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজটি যখন হিথ্রো টার্মিনাল-৫ থেকে পুশব্যাক নিচ্ছিল, তখন সদ্য প্রশিক্ষণ শেষ করা এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ‘ডোরস টু অটোমেটিক’ প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্ত হয়ে ডোর থ্রিএল খুলে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ইভাকুয়েশন স্লাইড ফুলে বের হয়ে আসে।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এরপর প্রকৌশলীরা বিমানের দরজা ও স্লাইড সিস্টেম পরীক্ষা করেন। জরুরি স্লাইড একবার খুলে গেলে সেটি পুনরায় ব্যবহার করার আগে সম্পূর্ণ পরীক্ষা, রিপ্যাক অথবা পরিবর্তন করতে হয়। ফলে পুরো উড়োজাহাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্রাউন্ডেড হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ ছয় ঘণ্টারও বেশি বিলম্বের পর একই বোয়িং ৭৭৭-২০০ বিমানটি শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে যাত্রা করে।
এ ধরনের ঘটনাকে বিমান চলাচল শিল্পে ‘অনিচ্ছাকৃত স্লাইড স্থাপন (আইএসডি)’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্লান্তি, মানসিক চাপ, নতুন ক্রুদের অভিজ্ঞতার অভাব অথবা প্রক্রিয়াগত বিভ্রান্তির কারণে এ ধরনের ভুল ঘটে থাকে। একটি বোয়িং-৭৭৭ এর জরুরি স্লাইড রিপ্লেস বা রিপ্যাক করতে কয়েক হাজার থেকে দশ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এ ছাড়া যাত্রী ক্ষতিপূরণ, বিলম্বজনিত অপারেশনাল ক্ষতি এবং ফ্লাইট সূচির বিশৃঙ্খলাও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরেও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে এ ধরনের একাধিক স্লাইড দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে নতুন ক্রুদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা পদ্ধতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন