ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চিলিতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ভূমিকম্পের কম্পণ। ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহত বা সুনামির আশঙ্কার খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পপ্রবণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে চিলিতে প্রায়ই এমন শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, চিলির উত্তরাঞ্চলের আন্তোফাগাস্তা অঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) বিকেলে শক্তিশালী ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কালামা শহরের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে।

তবে প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিসও এই ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্য সুনামি সৃষ্টির মতো নয় বলে জানায়। ফলে চিলির উপকূলে সুনামির কোনও ঝুঁকি নেই বলে জানানো হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান করায় চিলিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। মূলত নাজকা ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে নিয়মিত বিভিন্ন মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়।

১৫৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চিলিতে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টির মাত্রা ছিল ৮ বা তার বেশি। জরুরি ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি দশকে অন্তত একটি ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয় দেশটি।

চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পগুলোর একটি ছিল ১৯৬০ সালের ভালদিভিয়া ভূমিকম্প। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পকে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয়। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ তৈরি হয় এবং এতে দক্ষিণ চিলির উপকূলীয় অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

সুনামির ঢেউ প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে জাপান পর্যন্ত পৌঁছায় এবং সেখানে ছয় মিটার উঁচু ঢেউ আঘাত হেনে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। যদিও মৃতের সঠিক সংখ্যা কত ছিল তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে সরকারি হিসাবে এতে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

চিলির সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ছিল ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। এটি ‘২৭এফ’ নামে পরিচিত। ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটি ছিল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প। মাউলে অঞ্চলের উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল এবং গভীর রাতে এটি আঘাত হানায় মানুষ প্রস্তুত থাকার সুযোগ পায়নি।

ভূমিকম্পের এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সৃষ্ট সুনামিতে মাউলে ও বায়োবায়ো অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। সুনামির ঢেউ পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও কোস্টারিকা পর্যন্ত পৌঁছালেও চিলির বাইরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এই দুর্যোগে ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ৫০ জন নিখোঁজ হন।

চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ১৯৩৯ সালের ২৪ জানুয়ারি রাতে। সেদিন ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ওই ভূমিকম্প ভালপারাইসো থেকে তেমুকো পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। কম্পনে চিলান শহর প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এটিকে ‘চিলান ভূমিকম্প’ বলা হয়। এতে শহরের অর্ধেকের বেশি ভবন ধসে পড়ে।

ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, পরিবহন বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় রেলস্টেশন পুরোপুরি ধ্বংস হয়। ধ্বংসস্তূপের কারণে খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সরকারি হিসাবে ওই দুর্যোগে ২৪ হাজার মানুষ মারা যান।

তবে কিছু পরিসংখ্যানে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজারের কাছাকাছি বলা হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ৫ হাজার ৬৮৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।