× UCB Sticker Card
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম

ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ ভেনেজুয়েলায় চলছে হাহাকার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত দুই দিনে রাজধানী কারাকাস, উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৯২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৬০ জনকে। এখনও ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের স্পিকার জর্জ রদ্রিগুয়েজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জর্জ রদ্রিগুয়েজ বলেন, এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধার করা এখন একেকটি অলৌকিক ঘটনার মতো।

গত ২৪ জুন বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দুটি কম্পনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। জোড়া ভূমিকম্পে অসংখ্য বহুতল ভবন, আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন স্থাপনা আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে উত্তর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের উদ্ধারে অসহায় সময় পার করছেন হাজারো মানুষ। তাদেরই একজন নাজারেথ জিমেনেজ।

শুক্রবার রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরার একটি বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশীদের কংক্রিট কেটে উদ্ধারের চেষ্টা দেখতে দেখতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বজনের কাঁধে মাথা রেখে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, হে ঈশ্বর, আমরা ওদের কীভাবে বের করে আনব?

বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাজারেথ জানান, তার ভাইবোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নি এবং কয়েকজন বন্ধু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তারা জীবিত উদ্ধার হবেন কি না, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে নাজারেথ বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ জীবিত থাকতে পারেন। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে দ্রুত উদ্ধার সহায়তা পাঠানোর আবেদন জানান তিনি।

লা গুয়াইরার আরেক বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস এএফপিকে বলেন, তার ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য একটি আটতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন। এখনও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিশাল কংক্রিটের স্তূপ সরাতে প্রয়োজন ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি, যা এখনও সেখানে পৌঁছায়নি। ফলে আশপাশের ভবনগুলোতে আটকে থাকা বহু মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এদিকে ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যেসব বিদেশি দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে আগ্রহী, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে সরকার।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!