ক্যারিবীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
ফোনে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। এমনকি ট্রাম্প-মাদুরোর এই ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও যুক্ত ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এই ফোনালাপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মধ্যে এই ফোনালাপ হয় এবং সেখানে দু’জনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়।
মূলত এই ফোনালাপের খবর এমন সময়ে সামনে এল যখন ক্যারিবীয় সাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরিসহ বড় ধরনের সামরিক বহর মোতায়েন করে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, মাদক পাচার ঠেকানোর জন্য এই অভিযান চলছে। তবে কারাকাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন করা।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুক্ত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া অভিযানে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার কথিত মাদক-চোরাচালানকারী ২০টির বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। তবে এসব নৌযান আসলেই মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল কি না তার কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
তবে সামরিক অভিযান ও বাড়তি সামরিক বহর মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মূলত ভেনেজুয়েলা থেকে কথিত মাদক পাচার ঠেকাতে এবার স্থলপথেও অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর মাদুরোর সঙ্গে তার ফোনালাপের খবরটি সামনে এল।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন