ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ইউরোপের নেতাদের ‘ছোট শূকর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জন করবেই। হোক তা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অথবা কূটনৈতিক আলোচনার পথে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্রকৃত আলোচনা না হয়, তাহলে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রেই তার ঐতিহাসিক ভূখণ্ড মুক্ত করবে।
রুশ প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাইডেন প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন সংকটকে সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, তারা ভেবেছিল অল্প সময়ের মধ্যেই রাশিয়াকে দুর্বল বা ধ্বংস করা যাবে।
এই পরিকল্পনায় ইউরোপের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে পুতিন বলেন, তারা রাশিয়ার বিপর্যয় থেকে লাভবান হওয়ার আশায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত সুর মিলিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি ইউরোপীয় নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে ‘ছোট শূকর’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
পুতিনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন গত সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার পর মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, মতবিরোধ থাকা বিষয়গুলোর প্রায় ৯০ শতাংশে সমাধানের অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইউক্রেনের দেওয়া শর্তে রাশিয়া ছাড় দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
রাশিয়ার অবস্থান আগের মতোই কঠোর। পুতিন বারবার বলে আসছেন, শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনকে পুরো ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে এবং সেখানে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে। ইউক্রেন এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এই অবস্থানের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দেখিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের প্রতি পুতিনের এই কড়া ভাষা মূলত পশ্চিমা জোটের ঐক্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার কৌশল।

