মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে আজ, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে ৭২ বছর বয়সী নাজিব রাজাক মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ১এমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির মামলায় ছয় বছরের সাজা ভোগ করছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে নাজিব ও তার স্ত্রী রোসমাহ মনসুরের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে।
২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় নাজিব সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি কিছু বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন বাতিলও করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের চোখে তিনি হয়ে ওঠেন এক ‘বিচ্ছিন্ন অভিজাত’ নেতা। ২০১৫ সালে পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) চালু করাও ব্যাপক অজনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে, যা পরে বাতিল করা হয়।
তার স্ত্রী রোসমাহ মনসুরও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। বিলাসী জীবনযাপন ও আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বউয়ের চুল সাজাতেই খরচ হতো ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিত। সে সময় মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মাসিক মজুরি ছিল মাত্র ৯০০ রিঙ্গিত।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দাবি করেন, ২০১৫ সালে নাজিব তাকে বলেছিলেন— রাজনীতিতে টিকে থাকতে নগদ অর্থই সবচেয়ে বড় শক্তি। বিরোধীরা এই মন্তব্যকে নাজিবের দুর্নীতি ও ক্ষমতার দম্ভের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে।
নাজিবের নাম আগে থেকেই বিভিন্ন বিতর্কে জড়ায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ফ্রান্স থেকে সাবমেরিন কেনার চুক্তি এবং সেই চুক্তিকে ঘিরে ঘুষের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় জড়িত এক মঙ্গোলীয় নারী হত্যাকাণ্ডও দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। নাজিব অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০০৯ সালে উন্নয়নের উদ্দেশ্যে চালু করা ১এমডিবি তহবিল ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর বিপুল ঋণে ডুবে যায়। ২০১৫ সালে এর বিপুল অঙ্কের অর্থ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এই ক্ষোভই ২০১৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে বিরোধীদের নির্বাচনি বিজয়ের পথ তৈরি করে এবং নাজিবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
মার্কিন তদন্তে জানা যায়, ১এমডিবি থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিলাসবহুল সম্পত্তি, দামি শিল্পকর্ম, ব্যক্তিগত জেট এবং হলিউডের সিনেমা দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট নির্মাণে ব্যয় করা হয়। এসব অভিযোগ নাজিব অস্বীকার করলেও ২০২০ সালে একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১২ বছরের সাজা পান, যা পরে কমিয়ে ছয় বছর করা হয়।



