সামরিক আইন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইউল। সিউলের এক আদালত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এ ঘোষণা দেন। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় কখন আসতে পারে, সে ব্যাপারে এখনো কিছুই জানা যায়নি।
২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে অভিশংসিত হন ইউল।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চে ইউনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিশেষ কৌঁসুলি যুক্তি দেন—রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা, জাতীয় সংসদ দখলের নির্দেশ দেওয়া এবং বিরোধী নেতাদের আটক করার ষড়যন্ত্র—এসব মিলিয়ে ইউন সুক ইউলের কর্মকাণ্ড একটি সুস্পষ্ট বিদ্রোহের শামিল।
৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক ইউল ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ করেই সামরিক আইন জারি করেন। তবে বিরোধী দল-নিয়ন্ত্রিত জাতীয় সংসদ দ্রুত তা বাতিল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে সেনাদের সংসদ দখলে বাধা দেয়। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পরে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারির ঘটনা দেশটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছিল।
এ ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংসদ ইউন সুক ইউলকে অভিশংসন করে এবং দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হন। এপ্রিলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদচ্যুত করা হয়।
ইউন সুক ইউল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়ায় ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে সামরিক আইন জারি করেছিলেন এবং সেনা মোতায়েন ছিল কেবল ‘শৃঙ্খলা রক্ষার’ জন্য। তবে বিশেষ কৌঁসুলিদের মতে, নির্বাচন কমিশনে অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ তার বিদ্রোহী মনোভাবের প্রমাণ।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৯৭ সালের পর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। অতীতে সাবেক এক প্রেসিডেন্ট বিদ্রোহের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পেলেও তা পরে যাবজ্জীবনে রূপান্তর করা হয়েছিল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন