জায়ান্ট পান্ডাকে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক সদিচ্ছার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে চীন। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়লে সেই প্রতীকই হয়ে উঠছে চাপ তৈরির কৌশল। এরই ধারাবাহিকতায় জাপান থেকে সব পান্ডা ফিরিয়ে নিচ্ছে বেইজিং।
টোকিওর উয়েনো চিড়িয়াখানায় থাকা দুই জায়ান্ট পান্ডা—শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই—আগামী মঙ্গলবার চীনে ফেরত যাচ্ছে। বিদায়ের আগের দিন রোববার শেষবারের মতো তাদের এক নজর দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় জমে চিড়িয়াখানায়। অনেক দর্শককে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
চীন ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ ব্যবহার করে আসছে। জাপানকে প্রথম পান্ডা উপহার দেওয়া হয় ১৯৭২ সালে, যে বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হয়েছে।
বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, সে ক্ষেত্রে জাপান সামরিকভাবে জড়াতে পারে। এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।
যমজ পান্ডা শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই ২০২১ সালে উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়। তাদের মা শিন শিন ও বাবা রি রিকে প্রজনন গবেষণার অংশ হিসেবে চীন থেকে ধার দেওয়া হয়েছিল। তবে বিদেশে ধার দেওয়া সব পান্ডার মালিকানা চীনের কাছেই থাকে, এমনকি বিদেশে জন্ম নেওয়া শাবকরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এর বিনিময়ে স্বাগতিক দেশগুলোকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার ফি দিতে হয়।
টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শেষবারের মতো পান্ডাগুলো দেখার জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০টি স্থানের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ আবেদন করেছিলেন।
বিদায়ের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত দর্শকদের অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। বিবিসিকে দর্শক আই শিরাকাওয়া বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই এখানে আসে। আজ তাদের বিদায় জানাতে পারা আমাদের জন্য খুবই আবেগের।’
যমজ পান্ডাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১৯৭২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো জাপানে কোনো জায়ান্ট পান্ডা থাকছে না। ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে পান্ডা পাওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

