খরচ কমানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিস্থাপনের উদ্দেশে কর্মীদের বরখাস্ত অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন চীনের এক আদালত।এই রায় শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।
এআই-এর মাধ্যমে কাজ স্বয়ংক্রিয় করা যেতে পারে এই যুক্তিতে একটি প্রযুক্তি সংস্থা একজন কর্মীর পদ পরিবর্তন করে তার বেতন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল—যা শেষ পর্যন্ত ওই কর্মীকে বরখাস্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়—এবং এটি হাংঝৌ-এর আদালতে একটি অবৈধ বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল, হাংঝৌ-এর ইন্টারমিডিয়েট গণআদালত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত একগুচ্ছ নজিরবিহীন মামলা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত একটি মামলা ছিল এক প্রযুক্তি সংস্থা এবং ঝৌ পদবীর একজন কর্মচারীর মধ্যকার শ্রম বিরোধকে কেন্দ্র করে।
ঝৌ প্রযুক্তি সংস্থাটিতে গুণমান নিশ্চিতকরণের দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তিনি এআই ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের তৈরি বাক্যগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করতেন।
প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির প্রভাব এবং অপ্টিমাইজেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে, কোম্পানিটি ঝৌ-কে অন্য পদে বদলি এবং তার মাসিক বেতন ২৫ হাজার ইউয়ান (৩,৬৫৫ মার্কিন ডলার) থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার ইউয়ান করার চেষ্টা করেছিল।
কিস্তু ঝৌ যখন বেতন কমানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন প্রযুক্তি সংস্থাটি ওই কর্মীকে বরখাস্ত করে। এরপর ঝৌ শ্রম সালিশের আবেদন করেন এবং অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। সালিশি প্যানেল কর্মীর পক্ষে রায় দেয়ায়, প্রযুক্তি সংস্থাটি ইউহাং জেলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে।
চীনে শ্রম বিরোধের বিচার শুরু হওয়ার আগে সালিশি প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। দেশটির শ্রম বিরোধ মধ্যস্থতা ও সালিশি আইন অনুসারে, পক্ষগুলোকে প্রথমে তাদের মতবিরোধ মধ্যস্থতা ও সালিশি কমিশনে নিয়ে যেতে হবে; রায়ে অসন্তুষ্ট হলে তারা মামলা করতে পারে।
বিচার চলাকালীন ইউহাং জেলা আদালত উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র এআই কম খরচে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে বলে কোনো কর্মীকে প্রতিস্থাপন করা, ব্যবসা বন্ধ বা দুর্বল ব্যবস্থাপনার মতো আইনত অনুমোদিত বরখাস্তের কারণগুলোর আওতায় পড়ে না।
এছাড়াও আদালত দেখতে পায় যে, এটি ‘বস্তুনিষ্ঠ বড় পরিবর্তন’-এর আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি, যা একটি চুক্তি পূরণ করা অসম্ভব করে তোলে।
যেহেতু প্রস্তাবিত নতুন পদে ওই কর্মীর বেতন অনেক কম ছিল, আদালত রায় দেন যে এটি যুক্তিসঙ্গত আলোচনার প্রস্তাব নয়। আদালত এই বরখাস্তকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন।
আপিলের পর, হাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট আদালত মূল রায়টি বহাল রাখে। রায়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট কোর্ট উল্লেখ করেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একীভূত করা একটি সক্রিয় ব্যবসায়িক কৌশল, যার উদ্দেশ্য হলো একটি কোম্পানিকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করে তোলা।
যদিও এই ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কোনো কোম্পানির পরিচালন কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে, তবুও এগুলো সহজাতভাবেই এমন কোনো আইনত বাধ্যতামূলক উদ্দেশ্যমূলক বড় পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হয় না, যা শ্রম চুক্তি বাতিল করাকে সমর্থন করে।
আদালত বলেছে, শ্রমকে মুক্ত করতে, কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা উচিত। আইন কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি-চালিত রূপান্তরের অনুমতি দেয়, কিন্তু তাদের অবশ্যই কর্মীদের আইনি অধিকার রক্ষা করতে হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন