ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আটজন গোয়েন্দা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, তারা সংবেদনশীল স্থানের স্থানাঙ্ক ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য ‘ইসরায়েলি’ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। খবরটি জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জুন মাসে ‘ইসরায়েল’-এর সঙ্গে বিমানযুদ্ধ চলাকালে তারা তথ্য সরবরাহ করেছিল। ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহত হন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ মানুষ। ১৯৮০ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এটিকে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত বলা হচ্ছে।
প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ‘ইসরায়েল’-এর সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো ও শহরে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে প্রবেশ করে। ২২ জুন তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনরা অনলাইনে মোসাদের কাছ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তাদের উত্তর-পূর্ব ইরানে আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে লঞ্চার, বোমা, বিস্ফোরক ও বুবি ট্র্যাপ তৈরির সরঞ্জাম।
এর আগে, এ মাসের শুরুতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ‘ইসরায়েল’-এর সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ২১ হাজার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা জানানো হয়নি।
যুদ্ধ শেষ হয় মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে। এ সময় রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়। শুরু হয় ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান।
গত কয়েক মাসে অন্তত আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরান। তাদের মধ্যে ছিলেন পারমাণবিক বিজ্ঞানী রুজবেহ ভাদি। অভিযোগ ছিল, তিনি নিহত আরেক বিজ্ঞানীর বিষয়ে তথ্য ‘ইসরায়েল’-কে দিয়েছিলেন। ৯ আগস্ট তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, গুপ্তচরবৃত্তির অজুহাত ব্যবহার করে ইরান রাজনৈতিক দমনপীড়ন চালাচ্ছে। দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন