সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪০টি জাপানি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে চীন।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের শীর্ষ পর্যায়ের মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরির কয়েক মাস পর এ সিদ্ধান্ত এলো।
এর আগে জাপানের সংসদে (ডায়েট) বক্তব্য দিতে গিয়ে সানাই তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের সামরিক পদক্ষেপ জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ালে দেশটি সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তার এ মন্তব্যে চীনা সরকার ও জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
চীন জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মিতসুবিশিসহ আরও অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যাদের বিরুদ্ধে জাপানের সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি মহাকাশ, অটোমোবাইল, চিকিৎসা ও প্রকৌশল খাত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
মঙ্গলবার থেকে চীনা রপ্তানিকারকরা তালিকাভুক্ত জাপানি সংস্থা এবং তাদের বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না।
এছাড়া সুবারুসহ আরও ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে ‘নিরীক্ষণ তালিকায়’ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো জাপানের পুনঃসামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসঙ্গত।’
এদিকে, জাপানি বাণিজ্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চীন তার নাগরিকদের জন্য জাপান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে বলে জানা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে জাপানের পর্যটন খাতে। চীনা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল এ খাত নতুন করে চাপে পড়েছে।
তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ পদক্ষেপ কেবল অল্প সংখ্যক জাপানি সত্তাকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বিনিময় ও বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেছে তারা।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ‘সৎ ও আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন