মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কায় ইরানে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে চীন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বার্তায় এই সতর্কতা জারি করে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মুখে ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে দেশটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিবৃতিতে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, যারা বর্তমানে ইরানে রয়েছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আপাতত অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চীন থেকে ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
ইরান ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা স্থলপথে নাগরিকদের সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে। এই উত্তেজনার রেশ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল থেকে তাদের দূতাবাসের অ-জরুরি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলটিতে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের পদধ্বনি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর মাত্র এক দিন আগে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শেষ মুহূর্তের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্লেষকরা এটিকে যুদ্ধ এড়ানোর অন্তিম প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছিলেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে তাদের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে। দাবি প্রত্যাহার না করলে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং চীনের এই আকস্মিক নাগরিক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এখনো সচল থাকলেও যেকোনো সময় আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নাগরিকদের দ্রুত সরে যেতে উৎসাহিত করছে বেইজিং।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন