কৃষ্ণসাগর অতিক্রম করার সময় রাশিয়ার কথিত ‘ছায়া নৌবহরের’ জ্বালানি তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।তুরস্কের উপকূলে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ওই দুটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। কিয়েভ জানিয়েছে, আক্রান্ত ট্যাংকার দুটির নাম ‘কায়রোস’ ও ‘বিরাট’। দুটি ট্যাংকারই গাম্বিয়ার পতাকাবাহী।
দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা এ কথা নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে দেখা গেছে, ইউক্রেনের ড্রোনগুলো দ্রুতগতিতে ট্যাংকারে প্রবেশ করে। এরপর বিস্ফোরণ ঘটতে, আগুন জ্বলতে ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
শনিবার ‘বিরাট’ নামের ট্যাংকারে আরেক দফা হামলার খবর পাওয়া যায়। যদিও এসব হামলায় হতাহতের কোনো খবর জানা যায়নি।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বেছে বেছে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের রাজস্বের উৎসগুলোয় হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব হামলা জোরদার করা হয়েছে। কেননা এসব উৎস ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের পেছনে অর্থায়নের বিষয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহরের’ অংশ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর পুরোদস্তুর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে পশ্চিমারা। এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে এমন শত শত নৌযান ব্যবহার করে মস্কো। এগুলোকে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’ বলা হয়।
সাধারণত ‘ছায়া নৌবহরে’ বেশ পুরোনো ট্যাংকার ব্যবহার করা হয়। এসব নৌযানের প্রকৃত মালিকানা, এমনকি বিমা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
এর মধ্যে কৃষ্ণসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘কায়রোস’ ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়েছে। আর ‘বিরাট’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে কৃষ্ণসাগরের আরও পূর্ব দিকের অঞ্চলে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, দুটি ট্যাংকারই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বিবিসিকে জানায়, ইউক্রেনের নৌবাহিনী এসব হামলায় ‘সি বেবি ড্রোন’ ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা এসব নৌ ড্রোন তৈরি করেছে, যা এসবিইউ নামে পরিচিত।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন