ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর আলোচনা চললেও নতুন করে অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে বিরোধ উসকে দিয়েছে বেইজিং। চীন সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের একাধিক স্থানের নতুন চীনা নাম ঘোষণা করেছে, যা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
চীনের সিভিল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের নাম পরিবর্তন করে তালিকা প্রকাশ করেছে। বেইজিং এই অঞ্চলকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে এবং একে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে উল্লেখ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, এই নামকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) চীনের এই পদক্ষেপকে ‘কল্পিত ও ক্ষতিকর’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চীন ভারতীয় ভূখণ্ডে কাল্পনিক নাম দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা দাবি ও ভিত্তিহীন কাহিনি বাস্তবতা বদলাতে পারে না। অরুণাচল প্রদেশ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থাকবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে তালিকা প্রকাশ করছে চীন। এটি গত এক দশকে ষষ্ঠবারের মতো এমন পদক্ষেপ।
অরুণাচলের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই দাবি নতুন নয়। তাওয়াং, ইটানগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতীয় প্রশাসন ও পতাকা বহাল রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য,‘চীন যতই নাম পরিবর্তন করুক, আমাদের পরিচয় বদলাবে না।’
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে শি জিনপিং প্রশাসনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে এই পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত না দিলেও ‘কার্টোগ্রাফিক আগ্রাসনের’ মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছে ভারত। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রিত থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
সংঘাতের আশঙ্কা কতটা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনা কম হলেও সীমান্তে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশই সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের পথেই এগোচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন