যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ৭ দশমিক ৬০ ডলার বা প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮ দশমিক ৩১ ডলার বা ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কায় বাজারে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রণালিটি দিয়ে বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হয়।
এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, বাজার পরিস্থিতি অনেকটা সংঘাত-পূর্ব অবস্থায় ফিরে গেছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রণালিটি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলের প্রবাহ আটকে দেয়, তবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করতে পারে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান না আসায় এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এএনজেড-এর বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো সামরিক জাহাজকে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু তেলবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। তবে তা বৈশ্বিক বাজারের চাপ পুরোপুরি কমাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

