ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

মোসাদের ফাঁদে আহমেদিনেজাদ, বন্দি আইআরজিসির জালে

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি।

সোমবার (১৩ জুলাই) দ্য জেরুজালেম পোস্ট, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের পর ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি রেখেছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েক বছর ধরে ইসরায়েল আহমাদিনেজাদকে গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে গোপন অভিযান চালিয়ে আসছিল। এমনকি একপর্যায়ে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ক্ষমতাচ্যুত করে তাকে দেশটির নেতৃত্বে বসানোর পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শুরুতে এই গোপন তৎপরতা শুরু হয়। সে সময় হাঙ্গেরি সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রেক্টর গেরগেই দেলি আহমাদিনেজাদকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর অনুরোধ পান।

দেলি জানান, তাকে বলা হয়েছিল ওই সম্মেলনের আড়ালে আহমাদিনেজাদ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। নিজের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘যদি দুটি শত্রুপক্ষ নিজেদের মধ্যে কথা বলতে চায়, তাহলে তাদের সেই সুযোগ করে দেওয়া উচিত।’

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নিজে বুদাপেস্টে গিয়ে আহমাদিনেজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের মুখপাত্র আলি আকবর জাভানফেকরের কাছে কয়েক দফায় গোপনে অর্থ পাঠায়। পাশাপাশি ইসরায়েলি এজেন্টরা তার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেন।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় তার দেহরক্ষী ও ব্যবহৃত গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এরপর মোসাদের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় বলেও দাবি করা হয়। তবে পরে তিনি কেন ওই স্থান ত্যাগ করেন, তা স্পষ্ট নয়। দীর্ঘদিন পর তাকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে আহমাদিনেজাদ আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে।

আহমাদিনেজাদের সাবেক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদোলরেজা দাভারি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট অর্থের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করতেন না। তিনি বলেন, ‘তার অর্থ ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি এটি করতেন ক্ষমতার জন্য। তিনি সবসময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে চাইতেন।’

আরেক সহযোগীর দাবি, আহমাদিনেজাদ বিদেশি শক্তির সহায়তায় ইরানের নতুন শাসক হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, কোনো যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন কাউকে বেছে নিতে পারে, যিনি ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবেন।

ওই সহযোগী আরও বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টানা তিনবার অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর আহমাদিনেজাদ দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেন।

তার অভিযোগ ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে খামেনির সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। সহযোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, আহমাদিনেজাদ অতীতে বলেছিলেন, তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারলে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন।