ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সৌদি আরবের ‘কিং আব্দুল আজিজ পদক’ পেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের হাতে পদক তুলে দিচ্ছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ছবি- সংগৃহীত

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে প্রথম শ্রেণির ‘কিং আব্দুল আজিজ পদক’ প্রদান করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বাদশাহ সালমানের নির্দেশে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করেন।

গতকাল রোববার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ড মার্শাল মুনিরের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।

প্রিন্স খালিদ তার অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে জানান, সৌদি-পাকিস্তান সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ফিল্ড মার্শাল মুনিরের ‘অসাধারণ প্রচেষ্টার’ স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রিন্স খালিদ বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতেও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

এ সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অভিনন্দন জানান সৌদি যুবরাজ।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওই চুক্তিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সেই সময় দোহায় হামাস কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, এর প্রেক্ষাপটেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এই চুক্তি উভয় দেশের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

এ ছাড়া গত অক্টোবরে দুই দেশ একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামো চালু করে এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগ প্রকল্পে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই কাঠামোর আওতায় জ্বালানি, শিল্প, খনি, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত ও উচ্চ-প্রভাবশালী খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।