ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে ট্রাম্পের বিপরীতে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করেন তিনি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা অভিযানের সমালোচনা করে কমলা বলেন, মাদুরো একজন স্বৈরশাসক ছিলেন এটা সত্য। তবে তাকে পদচ্যুত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কমলা হ্যারিস বলেন, অতীতে শাসন পরিবর্তন কিংবা তেলের স্বার্থে পরিচালিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বারবার জড়িয়েছে। এসব যুদ্ধকে শক্তির প্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং এর মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ আমেরিকান পরিবারগুলোকে।
কমলা হ্যারিস আরও বলেন, মার্কিন জনগণ এমন নীতি আর সমর্থন করে না এবং তারা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে ক্লান্ত। তার মতে, এটি মাদক বা গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্ন নয়; বরং এটি তেল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজেকে আঞ্চলিক শক্তিমান হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ।
কমলা হ্যারিসের অভিযোগ, ট্রাম্প যদি সত্যিই মাদকবিরোধী কার্যক্রম বা গণতন্ত্রের ব্যাপারে আন্তরিক হতেন, তাহলে তিনি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক পাচারকারীকে ক্ষমা করতেন না এবং মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে ভেনেজুয়েলার বৈধ বিরোধী শক্তিকে উপেক্ষা করতেন না।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অথচ এসব পদক্ষেপের পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি, বাস্তবসম্মত প্রস্থান পরিকল্পনা কিংবা দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষের জন্য দৃশ্যমান কোনো সুফল নেই।
শেষে কমলা হ্যারিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এখন এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা কর্মজীবী পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং সর্বোপরি মার্কিন জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখাকে অগ্রাধিকার দেবে।
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন সেনারা।



