ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানি ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে এ মামলা করা হয়।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্রুকলিন মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে তুলে নেওয়ার পর তাকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে নিউইয়র্কে আনা হয়। মাদুরোর সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও ছিলেন। তবে ফ্লোরেসের সর্বশেষ অবস্থান এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় গতকাল ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় এদিন ভোর ৪টা ২১ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানান।
ট্রাম্প লেখেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরতে এক ‘দুঃসাহসিক অভিযান’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানানো হয়, সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ আবাসস্থল থেকে তাকে ও তার স্ত্রীকে তুলে আনেন।
এর পর থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রীর হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় সাত ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজে ‘আটক’ মাদুরোর ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, মাদুরোর চোখ বাঁধা ও হাতে হাতকড়া। পরনে ধূসর রঙের নরম কাপড়ের তৈরি ট্রাউজার-জ্যাকেট। বলা হয়, ছবিটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইডব্লিউও জিমায় তোলা।
গতকাল ভোরেই কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টারে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে উড়িয়ে নেওয়া হয়। গন্তব্য ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইডব্লিউও জিমা। ক্যারিবীয় সাগরের কোনো এক অজানা জায়গায় যুদ্ধজাহাজটি অবস্থান করছিল।
এরপর যুদ্ধজাহাজটি মাদুরোকে কিউবার গুয়ানতানামো বে মার্কিন নৌঘাঁটিতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উড়োজাহাজে করে মাদুরোকে নেওয়া হয় নিউইয়র্কে।
স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল ৫টার দিকে উড়োজাহাজটি নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অরেঞ্জ কাউন্টির স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে ওই উড়োজাহাজের দরজায় মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআইর ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের দেখা যায়। এরপর উড়োজাহাজটি থেকে মাদুরো বেরিয়ে আসেন। কারাকাস থেকে তুলে নেওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর তাকে নিউইয়র্কে দেখা যায়।



