ভেনেজুয়েলায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোনো নির্বাচন হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের দেশটাকে (ভেনেজুয়েলা) ঠিক করতে হবে। এখনই নির্বাচন করা সম্ভব নয়। মানুষ ভোট দিতেও পারবে না। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আমাদের ভেনেজুয়েলাকে ধীরে ধীরে সুস্থ করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, শনিবারের সামরিক অভিযানের ফলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র দেশটি পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনাও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। তার ভাষায়, ‘না, আমরা যুদ্ধ করছি তাদের বিরুদ্ধে, যারা মাদক বিক্রি করে, যারা তাদের কারাগারের বন্দি, মাদকাসক্ত আর মানসিক রোগীদের আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।’
এনবিসিকে তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেওয়া হতে পারে। এতে ১৮ মাসের কম সময় লাগতে পারে বলে তার ধারণা। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এতে বিপুল অর্থ লাগবে। কোম্পানিগুলো টাকাটা খরচ করবে, তারপর আমরা ফেরত দেব অথবা রাজস্ব থেকেই তা ওঠানো হবে।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করবে, প্রতিজনের আলাদা আলাদা দক্ষতা আছে।’
এদিকে সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা দাবি করেন। অন্যদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
তবে মাদুরো আটক হওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যোগাযোগ থাকার কথা তিনি নাকচ করেন। রদ্রিগেজের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, সেটিও শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাদুরোকে সরাতে ভেনেজুয়েলার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে চুক্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা এই পথেই এগিয়েছি।’ রদ্রিগেজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত উত্তর না দিলেও বলেন, রুবিও স্প্যানিশ ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সম্পর্ক ‘খুব দৃঢ়’।
রদ্রিগেজ সহযোগিতা না করলে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান হতে পারে বলে ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। যদিও তিনি মনে করেন, এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত ছিলাম, এমনকি আগেই এমনটা করার কথা ভেবেছিলাম।’
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কারণে তাকে নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘তার এটা পাওয়া উচিত ছিল না। তবে আমার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’
-20260106102644.webp)


