ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের সামরিক হামলা রুখতে সিনেটে প্রস্তাব পাস

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভবিষ্যতে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট বৃহস্পতিবার ৫২-৪৭ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই ভোটাভুটি আসে ট্রাম্পের অনুমোদনে ভেনেজুয়েলায় চালানো এক অভিযানের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে, যে অভিযানে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়। 

‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশন’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে পাসের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট ছিল। প্রস্তাবটি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় আবারও মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন ও কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। 

সিনেটের এই ভোটাভুটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, প্রস্তাবটি পাস হতে আর কোনো বাধা নেই। সিনেট থেকে অনুমোদনের পর এটি নিম্নকক্ষে (হাউস) যাবে, যেখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান অত্যন্ত কম। 

ভোটের পরদিনই ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া পাঁচ রিপাবলিকান সিনেটরের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা ও লড়াই করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেওয়া সিনেটরদের জন্য রিপাবলিকানদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’ 

তিনি আরও লেখেন, র‍্যান্ড পল, মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, মিসৌরির জশ হাওলি ও ইন্ডিয়ানার টড ইয়াং— এই পাঁচ সিনেটরের ‘আর কখনো নির্বাচিত হওয়া উচিত নয়’। 

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিনেটর সুসান কলিন্স ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর অর্থ হলো তিনি মেইন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জ্যানেট মিলস বা এমন কাউকে পছন্দ করবেন, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়।’ 

এদিকে র‍্যান্ড পল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভুল বোঝার সুযোগ নেই—অন্য একটি দেশের রাজধানীতে বোমা হামলা চালানো ও তাদের নেতা অপসারণ করা সরাসরি যুদ্ধের শামিল। সংবিধানের কোথাও প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। 

ট্রাম্প ও কংগ্রেসে তার সমর্থকরা দাবি করে আসছেন, মাদুরোকে আটক করার অভিযানে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ এটি ছিল একটি ‘আইন প্রয়োগমূলক অভিযান’। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কে মাদক-সংক্রান্ত মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। 

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেও অনুরূপ একটি প্রস্তাব সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। সে সময় মাত্র দুই রিপাবলিকান—র‍্যান্ড পল ও লিসা মারকাউস্কি—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। মাদুরোকে বন্দি করার আগে ভেনেজুয়েলার আশপাশে কয়েক মাস ধরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

ভোটের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে সুসান কলিন্স বলেন, ‘নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার অভিযানটি অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল ছিল, এবং আমি সেটিকে সমর্থন করি। তবে কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলা বা গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততার পক্ষে আমি নই।’