নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে দুই ব্যক্তিকে ট্র্যাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার অভিযোগে হন্ডুরাসের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে এর আগে চারবার দেশ থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি আবার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
নিউইয়র্কে বসবাসরত এক ব্যক্তি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে এ ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম বাইরন পোসাদা-হারনান্দেজ। তাকে আটক করার পর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ডিটেইনার জারি করেছে, যাতে তাকে মুক্তি না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, গত ৮ মার্চ ম্যানহাটনের ৬৩তম স্ট্রিট ও লেক্সিংটন অ্যাভিনিউ সাবওয়ে স্টেশনে কোনো উসকানি ছাড়াই দুই ব্যক্তিকে ট্র্যাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়। প্রথমে ৩০ বছর বয়সি জন রড্রিগেজকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ৮৩ বছর বয়সি রিচার্ড উইলিয়ামসকেও ট্র্যাকে ঠেলে দেওয়া হয়।
রিচার্ড উইলিয়ামস একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য। গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ায় তিনি এখনো হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার মেয়ে ডেবি উইলিয়ামস বলেন, তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি এখন ভেন্টিলেটরে আছেন। তিনি জেগে উঠছেন না এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। আমরা অলৌকিক কিছু ঘটার জন্য প্রার্থনা করছি।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রথম ভুক্তভোগী ট্র্যাকে পড়ে থাকার পর লাল হুডি পরা একজন ব্যক্তিকে প্ল্যাটফর্মে পায়চারি করতে দেখা যায়।
তবে অভিযুক্ত হারনান্দেজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তিনি কাউকে ধাক্কা দেননি বলে জানান।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথম ২০০৮ সালের ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এরপর চারবার তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয় সর্বশেষ ২০২০ সালে। তবে পরে তিনি অজ্ঞাত সময় ও স্থান দিয়ে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে ১৫টি গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, পুলিশের কাজে বাধা, অবৈধ অস্ত্র রাখা, মাদক রাখা এবং গুরুতর হামলা।
বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত তার জামিন নির্ধারণ করেছেন ১ লাখ ডলার নগদ অথবা ৩ লাখ ডলারের বন্ডে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।


