‘পিৎজা ইনডেক্স’ শব্দটি শুনলে প্রথমে মনে হতে পারে এটি খাবারদাবার নিয়ে মজার কোনো বিষয়। তবে এই শব্দটির গভীরেই লুকিয়ে আছে ভূরাজনীতিকে ভয়াবহভাবে নাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত। পেন্টাগন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে যখন পিৎজার অর্ডার কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন ধারণা করা হয়।
‘পিৎজা ইনডেক্স’ শব্দটি ‘পেন্টাগন পিৎজা রিপোর্ট’ নামেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত তত্ত্ব।
এই তত্ত্বটি সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন এবং কেন এটি পৃথিবীর মানুষের কাছে পর্যায়ক্রমে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, সেই প্রসঙ্গ এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
পিৎজা ইনডেক্স কী?
এই সূচকটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনের আশপাশের পিৎজা রেস্তোরাঁগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বা ডেলিভারি কার্যক্রমে হঠাৎ বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে।
এই তত্ত্বের সমর্থকদের মতে, বিশেষ করে গভীর রাতে অর্ডারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেন্টাগনের ভেতরে বাড়তি তৎপরতার ইঙ্গিত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন পর্যবেক্ষকেরা গুগল ম্যাপসের ট্রাফিক সূচকের মতো রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে আশপাশের পিৎজা দোকানগুলোর কার্যক্রম নজরদারির কথাও উল্লেখ করেছেন।
এর পেছনের যুক্তি বেশ সহজ- জরুরি অবস্থা বা দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈদেশিক নীতির প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করেন। ফলে আশপাশের রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় হঠাৎ বেড়ে যায়।
এই তত্ত্বের সমর্থকেরা প্রায়ই ১৯৯০ সালের ১ আগস্টের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই সময় ওয়াশিংটন এলাকার একটি ডমিনোজ পিৎজা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক জানান, ইরাকের কুয়েত আক্রমণের ঠিক আগে সিআইএ রেকর্ড পরিমাণ পিৎজার অর্ডার দিয়েছিল। পরে এই ঘটনাই উপসাগরীয় যুদ্ধের সূচনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এই উদাহরণটি ‘পিৎজা ইনডেক্স’ তত্ত্বকে সমর্থনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ছাড়া ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের ইমপিচমেন্ট শুনানির সময়ও মার্কিন সরকারি ভবনগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছিল পিৎজা ডেলিভারির সংখ্যা।
একই ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালের মে মাসে। ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’- অর্থাৎ যে অভিযানে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই সময়ও হোয়াইট হাউস সিচুয়েশন রুমে পিৎজার বাক্সের স্তূপ জমে গিয়েছিল বলে শোনা যায়।
কেন ফের আলোচনায়?
চলতি বছরে এই তত্ত্বটি নতুন করে আবারও আলোচনায় আসে। গুগল ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার সময় পেন্টাগনের আশপাশের চারটি পিৎজা রেস্তোরাঁয় কার্যক্রম হঠাৎ বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনলাইন ব্যবহারকারীরা এই ঘটনাটি সামনে আনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং উন্মুক্ত ডেটার সহজলভ্যতার কারণে এখন এ ধরনের প্যাটার্ন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ ও শেয়ার করা আরও সহজ হয়ে উঠেছে।
কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়?
বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা ‘পিৎজা ইনডেক্স’কে কোনো আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। যদিও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় এটি অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, তবুও প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে- রেস্তোরাঁর অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে সামরিক সিদ্ধান্ত বা অভিযান সম্পর্কে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
তবে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর ডেটা জার্নালিজমের প্রধান অ্যালেক্স সেলবি-বুথরয়েডের মতে, ১৯৮০ সাল থেকেই গোটা বিশ্বের যুদ্ধ বা অভ্যুত্থানের মতো ভয়াবহ ঘটনাবলীর নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দিয়েছে ‘পেন্টাগন পিৎজা ইনডেক্স’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন