ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মরদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির দায়ে মর্গ পরিচালকের ৮ বছরের কারাদণ্ড

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৩:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি।

মৃতদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশ চুরি করে বিক্রির দায়ে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক মর্গ ব্যবস্থাপককে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এসব মৃতদেহ মূলত চিকিৎসাসংক্রান্ত গবেষণার জন্য দান করা হয়েছিল। 

সাবেক ওই মর্গ ব্যবস্থাপকের নাম সেড্রিক লজ। দুই দশকের বেশি সময় মর্গ পরিচালনা করার পর ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হন তিনি। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পেনসিলভানিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন।

আদালতে কৌঁসুলিদের দায়ের করা এক নথিতে বলা হয়েছে, ‘তিনি (লজ) অনেক পরিবারের সদস্যদের অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছেন। তারা তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহের সঙ্গে কতটা অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন।’

গত মে মাসে ৫৮ বছর বয়সি সেড্রিক লজকে চুরি করা মালামাল পরিবহনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কৌঁসুলিরা বলেছেন, লজ মর্গে থাকা মৃতদেহ থেকে মাথা, মুখমণ্ডল, মস্তিষ্ক, চামড়া ও হাত সংগ্রহ করে নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফস্টাউনে নিজ বাড়িতে নিয়ে যেতেন। পরে এগুলো কয়েকজন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন।

চুরি করা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে লজের স্ত্রী ডেনিসকেও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ সময় পেনসিলভানিয়ার দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিনেছেন।

লজকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার জন্য কৌঁসুলিরা পেনসিলভানিয়ার উইলিয়ামসপোর্টে ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ম্যাথু ব্র্যানকে অনুরোধ করেছিলেন।

আর লজের আইনজীবী প্যাট্রিক কেইসি বিচারকের কাছে তার মক্কেলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। যদিও তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে, লজের কর্মকাণ্ড মৃত ব্যক্তিদের প্রতি অমানবিক এবং তাদের পরিবারের জন্য খুব কষ্টদায়ক।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনো সেড্রিক লজের সাজা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে তারা তার কর্মকাণ্ডকে ‘ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেছিল। তারা বলেছিল, এ ধরনের কর্মকাণ্ড হার্ভার্ডের মানদণ্ড ও মূল্যবোধ, মৃতদেহ দানকারী এবং তাদের প্রিয়জনদের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

গত অক্টোবর মাসে এক মার্কিন আদালতের রায়ে বলা হয়, যারা তাদের প্রিয়জনদের দেহ চিকিৎসা গবেষণার জন্য দান করেছিলেন, তারাই শুধু হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন।