× UCB Sticker Card
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

কথা কাটাকাটির জেরে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

কথা কাটাকাটির জেরে  সাইপ্রাসে বাংলাদেশি  শিক্ষার্থীকে হত্যা

ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসের লারনাকা শহরে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। তবে এ সময়জুড়ে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। গত রোববার লারনাকার কোফিনু এলাকা থেকে শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১১ জুন রাতে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিকে ইমন হত্যাকা-ের রহস্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে দেশটির পুলিশ। বাসে মোবাইল ওয়াই-ফাই হটস্পট শেয়ার করা এবং এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে নির্জন স্থানে নিয়ে ইমনকে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ের পর লাশ মাটিচাপা দিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে নিহতের গ্রিস-প্রবাসী বাবার কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণও দাবি করে অভিযুক্ত।

শাহরিয়ার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিস-প্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে যান তিনি। লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া একটি বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় শাহীন বাবু (২২) নামে আরেক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। স্বজনদের দাবি, শাহীন বাবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শাহরিয়ারের মরদেহ এবং হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। তবে গ্রেপ্তার শাহীনের বাংলাদেশের ঠিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লারনাকা জেলা আদালত গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সি আসামি বাংলাদেশি যুবক শাহিন বাবুর ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এ হত্যাকা-ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যম।

পুলিশি জবানবন্দিতে ঘাতক শাহিন বাবু জানায়, সে তুর্কি সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে গ্রিক সাইপ্রাসে প্রবেশ করে বসবাস করছিল। গত ৭ জুন একটি বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। ওই সময় ইমন তার কাছে কাজ খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং তারা একে অপরের মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন। শাহিন বাবুর দাবি, বাসে থাকা অবস্থায় সে ইমনের কাছে মোবাইলের ওয়াই-ফাই হটস্পট শেয়ার করতে বললে ইমন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে অপমান করেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা সাজায় শাহিন।

নিহতের মা পাপিয়া বেগম জানান, ১১ জুন বিকেলে ছেলের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। সে সময় শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তিনি একটি নতুন চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। একই তথ্য তিনি সাইপ্রাসে তার রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানিয়েছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে নতুন কর্মস্থলে পৌঁছে রায়হানকে মেসেজও দিয়েছিলেন শাহরিয়ার। কিন্তু এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। নিখোঁজের দিন রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার বাবার ফোনে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শাহরিয়ারকে অপহরণ করা হয়েছে এবং জীবিত ফেরত পেতে হলে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দিতে হবে। টাকা না দিলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

প্রথমে পরিবার বিষয়টিকে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা মনে করলেও পরদিন সকাল পর্যন্ত শাহরিয়ার বাসায় না ফেরায় তার রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পাপিয়া বেগম বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পরও প্রতিদিন শাহরিয়ারের নম্বর থেকে আমাদের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ছেলেকে উদ্ধারের আশায় আমরা টাকা দিতে রাজি হই। দর-কষাকষির পর ৩৫ হাজার ইউরোর পরিবর্তে বাংলাদেশি ৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

শাহরিয়ারের ছোট ভাই নয়ন আহমেদ বলেন, পুলিশের কোনো অগ্রগতি না দেখে আমরা রোববার দুপুরে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংকে যাই। সেখানে যাওয়ার পর আমরা ভাইয়ের সঙ্গে অন্তত একবার কথা বলতে চাই। কিন্তু তারা কথা বলিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমরা ব্যাংক থেকে ফিরে আসি। পরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে জানতে পারি, সাইপ্রাস পুলিশ শাহরিয়ারের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!