বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সভায় দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামি নীতির আলোকে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করে আসছে। দীর্ঘ পথচলায় দলটির নেতাকর্মীদের জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে বর্তমান সরকার ‘চব্বিশের চেতনা’ থেকে সরে এসে আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গণভোটের রায় উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়াবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল বাণিজ্য, ঘুষ ও দুর্নীতি বেড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বাড়ার কারণে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন। ব্যাংকিং খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ধ্বংসপ্রায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন সরকার সেটিকে পুনরায় ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ চলছে। জাতীয় সংসদেও বৈষম্য দেখা যাচ্ছে এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই প্রবণতা দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।
তরুণ সমাজ ও আলেমদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সচেতন তরুণ-যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের দেশপ্রেমিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আলেম সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দেশ গঠনে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন