ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসেপড়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছিলেন ডায়ানা প্যাটিনো। তার বুকে জড়িয়ে ছিল মাত্র ১৮ দিনের ছেলে হুয়ান ডেভিড। চারদিকে অন্ধকার, ধুলো আর ভাঙা কংক্রিটের স্তূপ। তবু হার মানেননি তিনি। কারণ, সন্তানের ক্ষীণ শ^াসই তাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলÑ বেঁচে থাকতেই হবে। উদ্ধারের পর ডায়ানা জানান, তিনি বারবার ছেলের নাকে হাত দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছিলেন, সে এখনো শ্বাস নিচ্ছে কি না। যতক্ষণ সন্তান বেঁচে ছিল, ততক্ষণ তিনিও বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। প্রথম দিকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও পরে বুঝতে পারেন, শক্তি সঞ্চয় করাই সবচেয়ে জরুরি। তাই আশপাশে মানুষের শব্দ শুনলেই কেবল ডাক দিতেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের বাসার রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। হালকা কম্পন মনে করে ছেলেকে কোলে নিয়েছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবন ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, মনে হচ্ছিল যেন আকাশে ছিটকে গেছেন, তারপর ধুলো আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তলিয়ে গেছেন। কংক্রিটের নিচে তার একটি পা আটকে যায়, মাথাও চেপে ছিল পাথরের সঙ্গে। এমন অবস্থাতেও সন্তানকে বুকের কাছ থেকে সরতে দেননি। অন্ধকারের মধ্যে সামান্য আলো আর শরীরের নিচে পাওয়া একটি ধর্মগ্রন্থ তাকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছিল।
পরে ভাইয়ের কণ্ঠে নিজের নাম শুনে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করেন। সেই আওয়াজ অনুসরণ করেই উদ্ধারকারীরা তার অবস্থান নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ ও সতর্ক অভিযানের পর মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ডায়ানার দুই পায়ে আঘাত লাগলেও ছোট্ট হুয়ান ডেভিড সামান্য চোট নিয়েই বেঁচে গেছে। ডায়ানার স্বামী গেরসন বলেন, ধসেপড়া ভবন দেখে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে আর জীবিত পাবেন বলে ভাবেননি। তাদের ফিরে পাওয়া তার কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো। এদিকে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার সাত শতাধিক হয়েছে। হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ। বহু এলাকায় উদ্ধার অভিযান চললেও জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবু ডায়ানা ও তার নবজাতকের গল্প প্রমাণ করে দিয়েছে, সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও আশা হারিয়ে যায় না।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন