মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন এলাকা থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পান কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। দ্রুত নিচে নেমে তারা ডাস্টবিনের পাশে শিশুটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর কর্তব্যরত নার্সরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন এবং প্রাথমিক সেবা দেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সদের ধারণা, শিশুটির জন্ম কিছুক্ষণ আগেই হয়েছে, তবে তার জন্ম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাইরের কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জন্মের পর রাতের আঁধারে তাকে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি পরম মমতায় শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন। শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে আশঙ্কায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন ইউএনও। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আশিক জানান, রাতের বেলা ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগপর্যন্ত ওই স্থানে কোনো শিশু ছিল না। খেলা শেষে ফেরার পথেই শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা যায়।
এ ঘটনায় পুরো হাসপাতাল এলাকা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে নবজাতকটিকে এভাবে ফেলে রেখে গেছে, তা এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন