মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির কারণে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৬৩ লাখ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে, যা স্কুলগামী বয়সি মোট শিশুর প্রায় অর্ধেক। সামরিক অভ্যুত্থানের আগে যেখানে প্রায় ৯৭ লাখ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ছিল, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৬৭ লাখে। সংঘাতের কারণে বহু বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কোথাও বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের আতঙ্কে অভিভাবকেরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে বই, পোশাক ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর খরচ বহন করতে না পেরে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় নতুন বিদ্যালয়েও ভর্তি হতে পারছে না। রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও সেগুলো নিরাপদ নয়। বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত হওয়ায় অনেক জায়গায় গোপনে বাড়িভিত্তিক পাঠদান চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের এই সংকট দেশটির একটি পুরো প্রজন্মকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের কাচিন রাজ্যে প্রবল বৃষ্টিতে একটি পরিত্যক্ত মূল্যবান পাথরের খনিতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চললেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খনি ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন