× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:৫৬ এএম

সম্পাদকীয়

রাজধানীর নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:৫৬ এএম

রাজধানীর নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে

রাজধানী ঢাকা দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন লাখো মানুষ জীবিকা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে এই শহরে প্রবেশ করে। এমন একটি মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বই নয়, বরং রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ অপরাধের যে নতুন প্রবণতা সামনে এসেছে, তা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজধানীতে সংঘটিত বহু আলোচিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়। তারা আশপাশের জেলা থেকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় আসে, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা কিংবা মাদক পাচারের মতো অপরাধ সংঘটিত করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহর ছেড়ে চলে যায়। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের ভাষায় এটি ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল। অপরাধ সংঘটনের পর প্রশাসনিক সীমানা অতিক্রম করে আত্মগোপন করায় তদন্ত জটিল হয়, অভিযান বিলম্বিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা দীর্ঘ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রাজধানীতে ১৮ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও বাস্তবতা হলো, অনেক অপরাধ অভিযোগ হিসেবেও নথিভুক্ত হয় না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজধানীর নিরাপত্তাকে এখনো অনেকাংশে শহরের অভ্যন্তরীণ টহল ও চেকপোস্টকেন্দ্রিক ভাবা হচ্ছে। অথচ অপরাধের ধরন বদলে গেছে। অপরাধীরা রাজধানীর চারপাশের প্রবেশ ও প্রস্থান থেকে নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহার করছে। আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, ডেমরা, কাঁচপুর কিংবা সদরঘাটÑ এসব রুট এখন শুধু মানুষের চলাচলের পথ নয়, সংঘবদ্ধ অপরাধীদেরও দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম। ফলে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শহরের ভেতরের পাশাপাশি বাইরের করিডরগুলোও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে এআইভিত্তিক স্মার্ট ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ (এএনপিআর), ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি এবং রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালু করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ডিএমপি, আশপাশের জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী প্রশাসনিক সীমানার সুযোগ নিয়ে আইনের নাগালের বাইরে যেতে না পারে।

একসময় ভাসমান অপরাধীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পায়নি। অথচ অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের হালনাগাদ তথ্যভান্ডার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের গতিবিধি বিশ্লেষণের মতো কাজ নিয়মিত না হলে অপরাধ প্রতিরোধ কেবল অভিযানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

বিশ্বের উন্নত শহরগুলো দেখিয়েছে, আন্তঃসীমান্ত বা আন্তঃঅঞ্চলভিত্তিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তি, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত পুলিশিংই সবচেয়ে সফল পথ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী জেলার জন্য একটি স্থায়ী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, একীভূত অপরাধ তথ্যভান্ডার এবং ২৪ ঘণ্টার সমন্বিত অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন।

রাজধানীর নিরাপত্তা শুধু ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব নয়, এটি একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ। অপরাধীরা যদি সহজেই ঢাকায় প্রবেশ করতে পারে এবং অপরাধ শেষে নির্বিঘেœ শহর ছাড়তে পারে, তবে নাগরিক নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত হবে না।

আমরা আশা করব, সরকার রাজধানীর চারপাশের প্রবেশপথগুলোকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, সমন্বিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং কার্যকর যৌথ অভিযানের আওতায় এনে অপরাধীদের সেই তথাকথিত ‘সেফ প্যাসেজ’ চিরতরে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নিরাপদ ঢাকা গড়তে এটাই এখন সময়োপযোগী ও অপরিহার্য পদক্ষেপ।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!