ভোলার মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌরুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআইডব্লিউটিসির একমাত্র নিরাপদ সি-ট্রাকটি গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী ট্রলারে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মনপুরার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ছাড়া যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পণ্যবাহী ট্রলারে যাত্রী পারাপার চলছে। এসব ট্রলারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর কার্যকর নজরদারি না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত অবৈধ নৌযান নিয়ন্ত্রণ এবং সি-ট্রাক চালুর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই সি-ট্রাকটি পুনরায় চালু করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মনপুরা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি পণ্যবাহী ট্রলার উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে তজুমদ্দিন ঘাটে পৌঁছায়। ট্রলারের খোলে ত্রিপল টানিয়ে যাত্রী বহন করা হলেও নৌযানটির যাত্রী পরিবহনের কোনো বৈধ অনুমতি বা ফিটনেস সনদ নেই। তারপরও গত ছয় মাস ধরে এভাবেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। একই দিন দুপুর ২টার দিকে তজুমদ্দিন ঘাট থেকে মনপুরাগামী ট্রলারে নারী ও শিশুসহ শতাধিক যাত্রীকে মালামালের সঙ্গে গাদাগাদি করে তোলা হয়। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কিংবা কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না। প্রচ- গরম ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের মেঘনা নদী পাড়ি দিতে দেখা যায়। সম্প্রতি ওই ট্রলারে যাতায়াত করেন মনপুরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আমিমুল এহসান জসিম। তিনি বলেন, ‘ট্রলারে বসার জায়গা না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে মনপুরার মানুষ বাধ্য হয়ে এভাবেই যাতায়াত করছে। আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি একাধিকবার তুলে ধরলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। মনপুরাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এ রুটে নতুন একটি সি-ট্রাক বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।’
হাজিরহাট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তপন চন্দ্র হাওলাদার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য ঘাটে এসে ট্রলারের অবস্থা ও নদীর ঢেউ দেখে যাত্রা করতে সাহস পাননি। তিনি বলেন, ‘মনপুরার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।’
যাত্রী রহম আলী বলেন, ‘একই ট্রলারে যাত্রী, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মালামাল এক সঙ্গে পরিবহন করা হয়। বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, গরমে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়।’ কলেজ শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, ‘ট্রলারে যাত্রীদের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিন-মনপুরা নৌরুটে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআইডব্লিউটিসির এসটি ইলিশা নামের একটি সি-ট্রাক চলাচল করত। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি গত বছরের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ছাড়া কোনো নৌযানে যাত্রী পরিবহন করা যায় না। সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পণ্যবাহী ট্রলারে যাত্রী পরিবহন চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির উপবাণিজ্য ব্যবস্থাপক (যাত্রী) খন্দকার মুহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইজারা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সি-ট্রাকটি বন্ধ ছিল। জটিলতা নিরসনের পর খুব শিগগিরই এটি পুনরায় চালু করা হবে।’
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ছাড়া কোনো ট্রলারে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি নেই। মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌরুটে অবৈধভাবে চলাচলকারী ট্রলারগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন