ময়মনসিংহে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদ-, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নাজমুল হক (২৬) ও এনামুল হক। কারাদ-প্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)। তারা সবাই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে এক তরুণীর মাধ্যমে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তার গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। দুই দিন পর, ২১ মে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তে জানা যায়, সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন আকাশের বাবা মো. আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন