পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে টানা ২৬ দিনের বেশি সময় ধরে চলা অসহযোগ আন্দোলনে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একই সময়ে বেলুচিস্তানে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি শিবিরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ মুক্তি বাহিনী। একদিকে গণবিক্ষোভ, অন্যদিকে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্য কমানো, বিদ্যুতে ভর্তুকি এবং রাজনৈতিক সংস্কারসহ ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে একটি অরাজনৈতিক গণমঞ্চ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কাশ্মীরে উৎপাদিত জলবিদ্যুতের সুবিধা স্থানীয় মানুষ পাচ্ছে না। পাশাপাশি বিধানসভায় সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামাবাদ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে বলেও তাদের দাবি। আন্দোলন দমাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ থেকে ২৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শাটডাউনের কারণে মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালকোট ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট, পরিবহন ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
এদিকে বেলুচিস্তানের উপকূলীয় এলাকায় উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি শিবিরে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচ মুক্তিবাহিনী। সংগঠনটির দাবি, হামলায় অন্তত ৩০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্যও প্রকাশ করেনি। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটির ভাষ্য, এটি তাদের চলমান সশস্ত্র অভিযানের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে তারা বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয় জনগণের অধিকার এবং অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করে নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। একই সময়ে কাশ্মীরে গণঅসন্তোষ এবং বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন