× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জহিরুল ইসলাম মিলন, ধনবাড়ী

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

দেশীয় মাছের সংকটে ধনবাড়ীর নদ-নদী

জহিরুল ইসলাম মিলন, ধনবাড়ী

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

দেশীয় মাছের সংকটে  ধনবাড়ীর নদ-নদী

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয় থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী অনেক দেশীয় মাছ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যসংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় ধনবাড়ীর যমুনার শাখা ঝিনাই নদী, বংশাই নদী, বিভিন্ন খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও মুক্ত জলাশয়ে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বর্তমানে শতাধিক প্রজাতি অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বাইম, বোয়াল, গজার, আইড়, ভেটকি, ভোলা, মাগুর, শৈল, চেলা, টাকি, চাঁদা, বাইশ, কাকিলা, খলিসা ও গুলশা উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মাছের অধিকাংশই একসময় ধনবাড়ীর নদ-নদী ও জলাশয়ে সহজলভ্য ছিল।

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, দেশীয় মাছের সংকটের পেছনে রয়েছে নদ-নালা ও খাল-বিল দখল ও ভরাট, চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক ব্যবহার, মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, সেচ দিয়ে মাছ ধরা, ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন এবং জলাশয় ইজারা দেওয়ার মতো নানা কারণ।

যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৯৮ বছর বয়সি হোসেন আকন্দ বলেন, ‘ছোটবেলায় দেখতাম বিলভর্তি মাছ। জাল ফেললেই মাছ উঠত। বর্ষায় পানির সঙ্গে ঘরেও মাছ চলে আসত। এখন খাল-বিলে মাছের দেখা মেলে না। পানিটাই যেন মরে গেছে।’

বানিয়াজান ইউনিয়নের ইউসুপ মিয়া বলেন, ‘আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। দেশীয় মাছ এখন খুবই দুর্লভ। বাজারে অল্প যা আসে, তার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এক কেজি ছোট টেংরা মাছের দাম এখন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।’

আমলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরাও জানান, একসময় বাজারে দেশীয় ছোট মাছের কোনো সংকট ছিল না। স্বল্পমূল্যে সাধারণ মানুষ এসব মাছ কিনতে পারলেও বর্তমানে অল্প সরবরাহের কারণে দাম অনেক বেড়ে গেছে।

ধনবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় মাছের এত প্রাচুর্য ছিল যে মানুষ মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন সেই ছোট মাছের দেখা পাওয়াই কঠিন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বই বা ছবিতে দেখে পুঁটি, টেংরা কিংবা মাগুর মাছ চিনবে।’

ধনবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, জলাশয় ভরাট, নদ-নদীতে পানির সংকট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত আহরণ, সেচ দিয়ে মাছ ধরা এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক প্রজাতির মাছ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনঃখনন, নদী-খালের স্বাভাবিক সংযোগ বজায় রাখা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরি।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধনবাড়ীর নদ-নদী ও খাল-বিল একসময় দেশীয় মাছের জন্য সুপরিচিত ছিল। সেই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শুধু ইতিহাস হয়েই থাকবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!