রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কস্তিয়ানতিনিভকা শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে বাড়তে থাকা যুদ্ধক্ষয় পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের কার্যক্রমও জোরদার করেছে মস্কো। অন্যদিকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক এলাকাও ক্রমেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন কস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, শহরটি দোনবাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও শিল্পকেন্দ্র। রুশ সেনাবাহিনীর ভাষ্য, এই শহর দখলের মাধ্যমে দোনেৎস্ক অঞ্চলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে ইউক্রেন এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক হামলায় তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের কথাও জানিয়েছেন পুতিন। যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে নতুন সেনা সংগ্রহে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ড্রোন ইউনিটে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। উন্নত প্রশিক্ষণ, আর্থিক সুবিধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক তরুণকে সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ড্রোন ইউনিটে যোগ দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন পরিচালনাকারী নিয়োগেও ব্যাপক প্রচারণা চলছে। রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদারে অনলাইনেও নিয়োগ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেনাসংকট মোকাবিলার প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার দাবি, এক দিনে শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাল্টা হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে অন্তত চারজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ধ্বংসস্তূপে আটকেপড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা সীমিত হলেও ইউরোপীয় সামরিক জোট ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। বরং নতুন সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও দীর্ঘ ও জটিল হওয়ার আশঙ্কাই বাড়ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন