শতবর্ষের ইতিহাস, টেরাকোটার নিপুণ কারুকাজ আর রাজকীয় স্থাপত্যের অনন্য ঐতিহ্য যেন হাতছানি দিয়েছিল। সেই টানেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ি ও গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে এলেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনাই দারুসসালামের রাষ্ট্রদূত হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান। গতকাল শনিবার দুপুরে তার এই সফর কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার এক কূটনৈতিক প্রয়াস।
গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সড়কপথে পুঠিয়া রাজবাড়ি চত্বরে পৌঁছান রাষ্ট্রদূত। সেখানে তাকে বরণ করে নেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান এবং রাজবাড়ি-সংশ্লিষ্টরা। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার পরই প্রতিনিধি দলটি প্রবেশ করে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত রাজবাড়ির বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি মন্দির-সংলগ্ন টেরাকোটার সূক্ষ্ম অলংকরণ, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের নানা দিক গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পুঠিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস, জমিদারি আমলের স্থাপত্য ও প্রতœতাত্ত্বিক সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
রাষ্ট্রদূতের এই সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ব্রুনাই দূতাবাসের প্রথম সচিব মাজি রোজাইমি বিন দাতো পদুকা হাজি আবদুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাবেক সম্পাদক আবদুল রহমান।
প্রায় ১৪ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে দুপুর ২টার দিকে প্রতিনিধি দলটি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রদূতের সফর ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন পুঠিয়া রাজবাড়ি ও এর মন্দিরসমূহ দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক ও কূটনীতিকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রতœতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এমন সফর কেবল সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি বাংলাদেশের প্রতœঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই অর্থে ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূতের এই সফর পুঠিয়ার ঐতিহাসিক পরিচিতিকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন