যমুনা ও কালিগঙ্গা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) রবিউল আওয়াল লাভলুর নির্দেশনায় ভাঙন রোধে ২৫০ কেজি ওজনের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দপ্তিয়র পশ্চিম খ-, বাককাটারী, ছিটকিবাড়ী দক্ষিণ খ- ও ছিটকিবাড়ী খেয়াঘাট এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কার্যক্রম চলছে। ২৫০ কেজি ওজনের বালুভর্তি জিও ব্যাগগুলো বড় নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে নদীপথে ভাঙনকবলিত এলাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর সেগুলো নদীর তীরে স্তরে স্তরে সাজিয়ে ফেলা হচ্ছে, যা ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কাজের মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দীন কাজ মনিটরিংয়ের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজের তদারকি করছি। কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকার জনগণ অনেক উপকৃত হবে।’
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান জানান, মোট চারটি পয়েন্টে ৮৬০ মিটার এলাকায় এই কাজ চলছে। এর মধ্যে দপ্তিয়র পশ্চিম খ-ে ৫১০ মিটার, বাককাটারীতে ১৪০ মিটার, ছিটকিবাড়ী দক্ষিণ খ-ে ৭০ মিটার এবং ছিটকিবাড়ী খেয়াঘাট এলাকায় ১৪০ মিটার কাজ অন্তর্ভুক্ত। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের আতঙ্কে থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন (৬০) জানান, প্রতি বছরই নদীভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়, তবে এবার বাঁধের কাজ হওয়ায় তারা ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার আশা করছেন।
দপ্তিয়র ইউপি চেয়ারম্যান এম. ফিরোজ সিদ্দিকি স্থানীয় এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কালিগঙ্গা নদীর দুপাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পাবে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. এরফান উদ্দীন জানান, জিও ব্যাগ ফেলার কাজে কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। কাজের মান নিশ্চিত করতে তিনি একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছেন এবং নিজেও পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন বলে জানান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন