দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সফলভাবে অ্যানেস্থিয়া দিয়ে অজ্ঞান করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিটে এই জটিল ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির পক্ষ থেকে এতথ্য জানানো হয়েছে।
গর্ভস্থ শিশুটি ফিটাল হাইড্রোপসে আক্রান্ত ছিল। সঙ্গে তীব্র মাত্রার রক্তশূন্যতা ছিল। গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন গর্ভস্থ শিশুটিকে রক্ত সঞ্চালন করবেন। কিন্তু গর্ভস্থ বাচ্চার ডেলিভারি হতে প্রায় আরও দুই মাস বাকি। মানে গর্ভবতী মায়ের এখন ২৭ সপ্তাহ চলে। তখন সিদ্ধান্ত হয় গর্ভে রেখেই রক্ত প্রদান। এটিও বাংলাদেশে প্রথম। কিন্তু বাচ্চা প্রচুর নড়াচড়া করায় তাকে অ্যানেস্থিয়া প্রদান করা লাগবে। অবেদনবিদরা গর্ভস্থ শিশুটিকে গর্ভে রেখেই অ্যানেস্থিয়া প্রদান করেন; যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।
অ্যানেস্থিয়া প্রদান করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের অবেদনবিদ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শরীফ হোসাইন ও সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুল মাজিদ হিলালী (নোমান)। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খান।
চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান ও অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা।
এ ছাড়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন