স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে মেতেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, ওহাইওসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আতশবাজি, সামরিক প্রদর্শনী, বিমান কসরত, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন লাখো মানুষ। নিউইয়র্কের আকাশে বিমানের ধোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলা হয় দেশের মানচিত্র ও আড়াইশ বছর পূর্তির প্রতীক। ফিলাডেলফিয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশেষ স্মারক সংরক্ষণ করা হয়, যা আরও আড়াইশ বছর পর খোলা হবে। উদ্যাপনের প্রধান অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ‘স্বর্ণযুগের’ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। নিজের ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিজয়ীদের জাতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশের সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দেশে সাম্যবাদী মতাদর্শের কোনো স্থান হবে না বলেও মন্তব্য করেন।
তীব্র দাবদাহ, বজ্রঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি কর্মসূচি ব্যাহত হলেও উৎসবের আমেজ থেমে থাকেনি। রাজধানীতে কিছু আয়োজন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে এসে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে অংশ নেন। উদ্যাপনকে ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজধানীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে স্বাধীনতা দিবসের রাতেই নিউইয়র্কের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় বন্দুক হামলায় চার শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হওয়ার ঘটনায় উৎসবের আনন্দে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভাজন, সামাজিক বৈষম্য এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবু উদ্যাপনের মূল বার্তা ছিলÑ দীর্ঘ পথচলার ইতিহাস স্মরণ করে নতুন প্রত্যয়ে আগামী দিনের পথে এগিয়ে যাওয়া।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন