ভিডিও মিটিং এখন কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দূর থেকে কাজÑ সব জায়গাতেই প্রতিদিন জুম, গুগল মিট, মাইক্রোসফট টিমস বা স্ল্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মে মিটিং করতে হয়। কিন্তু সমস্যাও কম নয়। একেকটি অ্যাপে মাইক্রোফোন মিউট করা, ক্যামেরা বন্ধ করা কিংবা মিটিং উইন্ডো সামনে আনার শর্টকাট একেক রকম। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাঝেই অনেক সময় ভুল বোতাম চাপা পড়ে যায় কিংবা কাক্সিক্ষত কাজটি করতে কয়েক সেকেন্ড নষ্ট হয়। এই সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যেই নতুন একটি ডিভাইস এনেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টার্টআপ প্রজেক্ট মিরাজ। ডিউন নামের ছোট এই ডিভাইসটি দেখতে অনেকটা চুইংগামের স্টিকের মতো। মাত্র তিনটি বোতাম থাকলেও এটি ব্যবহারকারীর খোলা অ্যাপ চিনে নিয়ে সেই অনুযায়ী নিজেই কাজের ধরন বদলে ফেলতে পারে।
ডিউন সরাসরি ম্যাকবুকের ইউএসবি-সি পোর্টে সংযুক্ত করা যায়। আলাদা কোনো ব্যাটারি বা চার্জারের প্রয়োজন হয় না। ম্যাকবুক থেকেই এটি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি ডিভাইস নির্দিষ্ট ম্যাকবুক মডেলের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করে, ফলে এটি ল্যাপটপের সঙ্গে একেবারে সমানভাবে বসে যায়। প্রয়োজন হলে ইউএসবি-সি ডংলের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যায়। ডিভাইসটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলোÑ কনটেক্সট-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। অর্থাৎ ব্যবহারকারী যে অ্যাপে কাজ করছেন, ডিউনের তিনটি বোতামের কাজও সেই অনুযায়ী বদলে যায়। ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপে এটি মাইক্রোফোন চালু বা বন্ধ করা, ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা মিটিং উইন্ডো সামনে আনার কাজ করতে পারে। আবার মাইক্রোসফট এক্সেল বা গুগল শিটসে একই তিনটি বোতাম কপি, পেস্ট ও আনডো হিসেবে কাজ করবে। গুগল ক্রোমে এগুলো দিয়ে পেজ রিফ্রেশ, ঠিকানার ঘরে যাওয়া বা পেস্ট করা যাবে। সফটওয়্যার ডেভেলপাররা চাইলে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কোড বা গিটহাবে পুল রিকোয়েস্ট অনুমোদন, মার্জ কিংবা বন্ধ করার মতো কাজও করতে পারবেন। ডিউনের সঙ্গে একটি সহায়ক অ্যাপও দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী প্রতিটি অ্যাপের জন্য আলাদা শর্টকাট নির্ধারণ করতে পারেন। শুধু কিবোর্ড শর্টকাট নয়, নির্দিষ্ট কমান্ড চালানো, কোনো সফটওয়্যার খুলে দেওয়া কিংবা একটি ওয়েব ঠিকানা চালু করার কাজও বোতামে যুক্ত করা যায়।
ডিভাইসটির আরেকটি আকর্ষণীয় সুবিধা হলোÑ ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয়। নির্ধারিত মিটিং শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে। তখন একটি বোতাম চাপলেই মিটিংয়ে যোগ দেওয়া, আমন্ত্রণ বাতিল করা অথবা ‘আমি কিছুটা দেরি করছিÑ এমন বার্তা পাঠানো সম্ভব’।
প্রোগ্রামিং জানা ব্যবহারকারীদের জন্য আরও উন্নত সুবিধাও রয়েছে। তারা চাইলে পাইথন স্ক্রিপ্ট লিখে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কাজ তৈরি করতে পারবেন। আর যারা কোডিং জানেন না, তাদের জন্য রয়েছে ক্লদ ডেস্কটপ-এর সমন্বয়। ব্যবহারকারী শুধু সাধারণ ভাষায় জানাবেন কী ধরনের শর্টকাট চান, এরপর ক্লদ নিজেই প্রয়োজনীয় স্ক্রিপ্ট তৈরি করে ডিউনের নির্দিষ্ট বোতামের সঙ্গে যুক্ত করে দেবে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিউন ব্যবহার করে সহজেই বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় কাজ তৈরি করা যায়। যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট খুললেই তার প্রতিযোগী, বিনিয়োগকারী এবং সম্ভাব্য সাক্ষাৎকার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখানো, অথবা একটি ছবিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরম্যাটে রূপান্তর করে দ্রুত প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা। বিশেষ করে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং নিয়মিত অনলাইন মিটিং করা পেশাজীবীদের জন্য এ ধরনের সুবিধা সময় বাঁচাতে পারে। তবে ডিভাইসটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো বোতামগুলোর চাপ তুলনামূলক হালকা। ফলে অসাবধানতাবশত হাত লাগলেই মাইক্রোফোন চালু হয়ে যাওয়া বা ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ছাড়া ডিউনের অ্যাপে একটি স্কিল মার্কেটপ্লেস থাকলেও বর্তমানে সেখানে খুব বেশি প্রস্তুত স্কিল নেই।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন