× UCB Sticker Card
সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

টিকে থাকার যুদ্ধে রোনালদের সামনে স্পেন চ্যালেঞ্জ

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

টিকে থাকার যুদ্ধে রোনালদের সামনে স্পেন চ্যালেঞ্জ

পর্তুগাল ও স্পেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ফুটবলের নয়, ইতিহাসেরও। আইবেরীয় উপদ্বীপের এই দুই দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী সীমান্ত, রাজবংশ ও আধিপত্যের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে। ১৬৪০ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন সংঘাতে তারা কখনো শত্রু, কখনো মিত্র ছিল। আজ সেই সংঘর্ষের রূপ বদলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পর্তুগাল-স্পেন দ্বৈরথ ইতিহাসের সেই বৈরিতাকেই ফুটবলের ভাষায় নতুন করে তুলে ধরবে। কামান-বারুদের বদলে এবার লড়াই হবে পাস, গোল ও কৌশলে। একসময়ের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে, যেখানে জয়ই লিখবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।

রোনালদোর বয়স এখন ৪১। ২০২৬ বিশ্বকাপই সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। গ্রুপ পর্বে শুরুতে গোল না পেলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েন তিনি। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নকআউটে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। এখন স্পেনের বিপক্ষে তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচে গোল করার সামর্থ্যই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ভরসা। যদি তিনি দলকে জিতিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারেন, তবে সেটি হবে তার বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।

বিশ্বকাপে দুই দলের অবস্থান

এই বিশ্বকাপে স্পেন শুরু থেকেই নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে স্পেন। চার ম্যাচ শেষে তারা এখনো অপরাজিত এবং একটি গোলও হজম করেনি। বলের দখল, সংগঠিত রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণÑ এই তিন দিকেই তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল।

পর্তুগালের যাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে কঠিন। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ এবং কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় দলটি। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রবার্তো মার্তিনেজের দল। পুরো টুর্নামেন্টে তারা সবসময় দাপুটে না খেললেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচ জেতার মানসিকতা দেখিয়েছে।

দুই দলের এই ভিন্ন যাত্রাই রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। একদিকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী স্পেন, অন্যদিকে ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পাওয়া পর্তুগাল।

কৌশলগত বিশ্লেষণ

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পজিশনাল ফুটবল। রদ্রিকে কেন্দ্র করে তারা মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেদ্রির সৃজনশীলতা ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলে। দুই প্রান্তে লামিন ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবাল মাঠকে প্রশস্ত রাখেন, ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়। পুরো টুর্নামেন্টে এই পরিকল্পনাই স্পেনকে সফল করেছে।

পর্তুগাল তুলনামূলকভাবে দ্রুত ট্রানজিশন ফুটবল খেলছে। ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস বল কেড়ে দ্রুত ব্রুনো ফার্নান্দেসের কাছে পৌঁছে দেন। ব্রুনো সেখান থেকে রাফায়েল লিয়াও কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলেন। বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লেও পাল্টা আক্রমণে পর্তুগাল খুবই বিপজ্জনক।

এই ম্যাচে স্পেন চাইবে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, আর পর্তুগাল অপেক্ষা করবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগের জন্য। ফলে ম্যাচের গতি নির্ভর করবে কোন দল নিজেদের পরিকল্পনা বেশি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথ

ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াই হতে পারে লামিন ইয়ামাল ও নুনো মেন্দেসের মধ্যে। স্পেনের ডান প্রান্তের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অস্ত্র ইয়ামালকে থামাতে পারলে পর্তুগাল অনেকটাই স্বস্তিতে থাকবে।

মাঝমাঠে রদ্রি বনাম ব্রুনো ফার্নান্দেসের দ্বৈরথও গুরুত্বপূর্ণ। রদ্রি যদি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে স্পেন নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে। অন্যদিকে ব্রুনো যদি দ্রুত আক্রমণ তৈরি করতে পারেন, তাহলে পর্তুগাল ম্যাচে এগিয়ে যেতে পারে।

রুবেন দিয়াস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অভিজ্ঞতা যেমন পর্তুগালের বড় সম্পদ, তেমনি পাও কুবার্সি, আয়মেরিক লাপোর্ত এবং উনাই সিমনের সমন্বয় স্পেনের রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করেছে। দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তাও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কে এগিয়ে এবং কেন?

রাউন্ড অব ১৬-এ মুখোমুখি হওয়ার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালÑ দুই দলই অপরাজিত। তবে টুর্নামেন্টে তাদের পথচলা এবং পারফরম্যান্সের ধরন একেবারেই ভিন্ন।

স্পেন চার ম্যাচে তিনটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরবকে ৪-০ এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় লা রোহা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউটের পরের ধাপে পৌঁছায়। এখন পর্যন্ত স্পেন ৮টি গোল করেছে, একটি গোলও হজম

করেনি এবং চারটি ম্যাচেই রক্ষণভাগ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। বলের দখল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, মাঝমাঠের আধিপত্য এবং সংগঠিত রক্ষণ। এই তিনটি দিক তাদের টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে পর্তুগালের পথ ছিল তুলনামূলকভাবে কঠিন। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ এবং কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় রবার্তো মার্তিনেজের দল। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। চার ম্যাচে পর্তুগালও অপরাজিত থাকলেও তাদের রেকর্ড দুটি জয় ও দুটি ড্র। দলটি ৮টি গোল করেছে এবং ২টি গোল হজম করেছে। দ্রুত ট্রানজিশন, উইংভিত্তিক আক্রমণ এবং বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা পর্তুগালকে নকআউটে আরও বিপজ্জনক দলে পরিণত করেছে।

পরিসংখ্যানে স্পেন কিছুটা এগিয়ে। কারণ তারা এখনো পর্যন্ত গোল হজম না করেই শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের খেলার ছন্দ প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে। তবে পর্তুগালও দেখিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে ম্যাচ জিততে হয়। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ মুখোমুখি হওয়ার আগে দুই দলই আত্মবিশ্বাসী, যদিও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে স্পেনকে সামান্য এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!