শেষ ষোলো চলছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। এখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই, নেই সমতার কোনো সমীকরণ; হয় জয়, নয়তো বিদায়। এমন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে ৭ জুলাই সিয়াটলের ঐতিহ্যবাহী লুমেন ফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় পরাশক্তি বেলজিয়াম। ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারির গর্জন কাজে লাগিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে মরিয়া আমেরিকান ইউএসএমএনটি, অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে অবিচল বেলজিয়ামের রেড ডেভিলসরা। একটি জমজমাট ও কৌশলী ফুটবলীয় যুদ্ধ দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের সাক্ষাৎ খুব বেশি না হলেও, যা হয়েছে তা ফুটবল রোমান্টিকদের মনে দাগ কেটে থাকবে। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও শেষ ষোলোর মঞ্চেই মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ম্যাচে বেলজিয়াম ২-১ ব্যবধানে জয়ী হলেও, ম্যাচটি অমর হয়ে আছে মার্কিন গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কারণে। এক ম্যাচে রেকর্ড ১৬টি সেভ করে তিনি বেলজিয়ান আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন।
মাঠে নামার আগে বেলজিয়াম দল যে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সহ-আয়োজক হিসেবে ঘরের মাঠে খেলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস। সিয়াটলের গ্যালারি মার্কিন সমর্থকদলে ছেয়ে যাবে। সেই চেনা আবহাওয়া ও দর্শকদের উন্মাদনা দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। তবে এই ম্যাচের আগে মার্কিন শিবিরে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। দলের অন্যতম সেরা তারকা এবং আক্রমণভাগের মূল ভরসা ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে মাঠে নামতে পারছেন না। বালোগুনের গতি এবং ডি-বক্সের ভেতর ক্লিনিকাল ফিনিশিং মার্কিন দলের গোল করার মূল অস্ত্র ছিল। তার অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগ সাজাতে মার্কিন থিংক-ট্যাংককে বেশ বেগ পেতে হবে। এখন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক বা টিমোথি উইয়াহদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাঁধে নিতে হবে দলকে টেনে নেওয়ার বাড়তি দায়িত্ব।
অন্যদিকে, বেলজিয়াম দল চলতি বিশ্বকাপে রয়েছে ফর্মে। গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের চমৎকার বোঝাপড়া এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বেলজিয়ামকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্রুপ পর্বের অপরাজিত ছন্দ ধরে রেখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগকে শুরু থেকেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েই মাঠে নামবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন