× UCB Sticker Card
সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:০৮ এএম

যশোরের শার্শা

সংকটে ধুকছে মৎস্য অফিস

মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:০৮ এএম

সংকটে ধুকছে মৎস্য অফিস

যশোরের শার্শা উপজেলা মৎস্য উৎপাদনে জেলার শীর্ষস্থানীয় একটি অঞ্চল। প্রতি বছর হাজার হাজার টন মাছ উৎপাদিত হলেও দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই উপজেলাটির মৎস্য অফিস দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকটে ধুঁকছে। দপ্তরের অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই বছরের পর বছর শূন্য থাকায় মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কোনো রকমে চলছে সরকারি এই দপ্তরের কার্যক্রম। এতে একদিকে মাঠ পর্যায়ের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনÑ উপজেলার হাজারো মৎস্যচাষি ও জেলেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস শার্শা উপজেলায়। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাত এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই উপজেলায় সরকারি খাস পুকুর রয়েছে ৩২টি এবং বেসরকারি পুকুর রয়েছে ৭ হাজার ১৭৩টি। বিপুল আয়তনের এসব জলাশয় থেকে বছরে প্রায় ২৯ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, গুলশা, পাবদা, শিং ও মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদনে শার্শার সুনাম জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়েও ছড়িয়েছে। কিন্তু বিশাল এই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার মুখে পড়ছে উপজেলা মৎস্য অফিস।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, দপ্তরে অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ছয়টি। অথচ বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা চারটি পদের মধ্যে মৎস্য সম্প্রসারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার পদটি সৃষ্টির পর থেকেই কখনো পূরণ হয়নি। এ ছাড়া উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদ দুটি প্রায় ১১ বছর ধরে এবং ক্ষেত্র সহকারী পদটি গত চার বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে।

জনবল সংকটের কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরতদের। মাছের খামার পরিদর্শন, নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ, মৎস্যজীবী নিবন্ধন, পরিসংখ্যান সংগ্রহ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রাম্যমাণ অভিযানÑ সবই সামলাতে হচ্ছে এই দুজনকে। এতে করে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় সেবা দিতে দেরি হচ্ছে, তেমনি সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল কর্মপরিধি সামাল দিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর প্রশাসনিক চাপও বাড়ছে। সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্রমবর্ধমান মৎস্য উৎপাদন ও সম্ভাবনা ধরে রাখতে দ্রুত শূন্যপদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যচাষিরা। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে মাঠ পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন আরও গতিশীল হবে এবং সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মৎস্য কর্মকর্তারা সেবা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা। তারা জানান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অত্যন্ত আন্তরিক এবং নিয়মিত মাঠে গিয়ে খামারিদের খোঁজখবর নেন। তবে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেত।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। মাঠ পর্যায়ের তদারকি এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!