অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহা ও তার স্ত্রী রিক্তা রানী সাহার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযোগের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই মেয়র দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগের যাচাই-বাছাই শুরু করে দুদক। এজন্য রংপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, সাবেক মেয়র উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দুই নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশি জন্মসনদ ও তাদের মায়ের জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত্যুসনদ প্রদানের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য রংপুর কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ওই অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণও পেয়েছে দুদক। অবৈধ সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাবেক মেয়র উত্তম কুমার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক থেকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে সম্পদ বিবরণী দাখিল করে উত্তম কুমার দম্পতি; যা এখনো যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে বদরগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে মনোজ কুমার সাহা ও রাজীব কুমার সাহা নামের দুই সহোদরকে জন্মসনদ দেওয়া হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভারতীয় পাসপোর্টধারী নাগরিক। শুধু তাই নয়, তাদের মা আরতী রানী সাহার মৃত্যুসনদ নিয়েও বড় ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আরতী রানী ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি বদরগঞ্জ পৌরসভা থেকে তার নামে একটি জাল মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়। এছাড়া বদরগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে রাজকুমার সাহার শতকোটি টাকা মূল্যের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগÑ মেয়র পদে থাকাকালীন নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন