× UCB Sticker Card
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ইকবাল হাসান ফরিদ

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

কম্বোডিয়ার ‘স্ক্যাম কলোনি’

আধুনিক দাস ব্যবসার নয়া নরক কম্বোডিয়া

ইকবাল হাসান ফরিদ

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

আধুনিক দাস ব্যবসার নয়া নরক কম্বোডিয়া

রাত তখন প্রায় পৌনে ১টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনাল থেকে একে একে বেরিয়ে আসছেন কয়েক তরুণ। কারো চোখে ঘুম নেই। মুখে নেই প্রবাসজয়ের হাসি। আছে আতঙ্ক, ক্লান্তি আর বেঁচে ফেরার স্বস্তি মেশানো কান্না। স্বজনদের বুকে জড়িয়ে কেউ নির্বাক, কেউ আবার অঝোরে কাঁদছেন। যেন মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে এসেছেন তারা।

এ দৃশ্য কোনো চলচ্চিত্রের নয়, বাস্তবের। শুধু গত জুন মাসেই কম্বোডিয়ার কুখ্যাত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৮৩ জন বাংলাদেশি। সর্বশেষ ১০৯ জন ফিরেছেন গত ৩০ জুন রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে। তাদের প্রত্যেকের গল্প আলাদা হলেও পরিণতি এক। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে আধুনিক দাসত্বের নরককু-ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল তাদের।

রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কম্বোডিয়ার তথাকথিত সাইবার কলোনিগুলো এখন মানবপাচারের নতুন ও ভয়াবহতম গন্তব্য। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের সেখানে নিয়ে আটকে রেখে বাধ্য করা হয় আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণায়। লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলেই নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। আর পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাচারকারীদের প্রধান অস্ত্র এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম কিংবা ভুয়া চাকরির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় বেতনের লোভনীয় বিজ্ঞাপন। পদবিও শুনতে বেশ সম্মানজনকÑ কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ কিংবা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি।

বেকারত্ব আর বিদেশে ভালো আয়ের আশায় অনেক শিক্ষিত ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন তরুণ এই ফাঁদে পা দেন। স্থানীয় দালাল ও রিক্রুটিং চক্র একেকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় কয়েক লাখ টাকা। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বৈধ সরকারি প্রক্রিয়ার মতো দেখাতে জোগাড় করে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও; যেন প্রতারণার কোনো চিহ্ন না থাকে।

কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই বদলে যায় সবকিছু। প্রতিশ্রুত কর্ম ভিসার বদলে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় স্বল্প মেয়াদি পর্যটক ভিসা। বিমানবন্দর থেকেই স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় চীনা সিন্ডিকেট পরিচালিত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে। ভেতরে ঢুকতেই কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

এসব কম্পাউন্ডকে বাইরে থেকে সাধারণ ভবন মনে হলেও ভেতরে চলে ভয়াবহ এক অপরাধ সাম্রাজ্য। ভুক্তভোগীদের দিয়ে ভুয়া পরিচয়ে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা এবং নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতি করানো হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে আনার লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয় প্রত্যেক কর্মীকে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেই শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রড দিয়ে মারধর, বৈদ্যুতিক শক, নখ উপড়ে ফেলা, দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা, এমনকি পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কলে দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়Ñ সবকিছুই সেখানে নিয়মিত ঘটনা। কম্পাউন্ডের ভেতরেই আছে নির্যাতনের জন্য আলাদা টর্চার সেল।

ফিরে আসা এক তরুণ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, তাদের বলা হয়েছিল চাকরি করবেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন কয়েক হাজার ডলারে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কাজ না করলে চলত মারধর। পালাতে চাইলে দেওয়া হতো হত্যার হুমকি। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন।

সম্প্রতি দেশে ফেরা এক ভুক্তভোগী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তার ফ্লাইট হয়। দুই দিন মালয়েশিয়ায় ট্রানজিটের পর ৭ ডিসেম্বর তিনি পৌঁছান কম্বোডিয়ায়। বিমানবন্দরের বাইরে রবিন শেখ নামে এক বাংলাদেশি তাকে রিসিভ করে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছুদিন পর দালাল রবিন কম্পিউটারের কাজের কথা বলে ২৩ ডিসেম্বর তাকে একটি কোম্পানিতে নিয়ে যান। পরদিন কাজে যোগ দিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি আসলে একটি স্ক্যাম প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করা হয়।

কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে সেখানকার চীনা মালিক টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তখনই তিনি জানতে পারেন, দালাল রবিন শেখ তাকে ২ হাজার ৮৫ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই টাকা শোধ না করলে তাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, কম্বোডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী এবং সেখানে বিয়ে করা এক বাংলাদেশি দালাল তাকে সুপারশপে চাকরির কথা বলে নিয়ে যান। পাঁচ মাস কাজ করানো হলেও মাসিক বেতন দেওয়া হতো মাত্র ৪০০ ডলার, যা দিয়ে থাকা-খাওয়া বাদ দিলে প্রায় কিছুই থাকত না। পরিবারের চাপে একপর্যায়ে তিনি অন্য কোম্পানিতে চাকরির কথা শুনে রাজি হন। আর তখনই তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় একটি স্ক্যাম সেন্টারে।

লক্ষ্মীপুর জেলার আরেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার অপারেটরের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয়। বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করে। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে তিনি পান মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা। বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে বাংলাদেশি দালালেরা। আর কোনো বৈধ কর্ম ভিসা তিনি পাননি। বরং অর্থের বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ভালো চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় পাঠানো তরুণদের পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়ার পর হোটেলে কিছুদিন রাখা হতো। এরপর কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নামে তাদের নেওয়া হতো বিদেশি সংস্থায়, যেখানে বিদেশি প্রশিক্ষকেরা গুগল ট্রান্সলেটরের সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট চালিয়ে প্রতারণার কৌশল শেখাতেন।

এই প্রশিক্ষণে শেখানো হতো ভুয়া ক্লোন ওয়েবসাইট দিয়ে ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ আত্মসাতের পদ্ধতি। ভুয়া নম্বর থেকে ফোন বা চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার নামে ডিপোজিট হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল এবং ভয়েস-ভিডিও কল রেকর্ড করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের পদ্ধতি। মানবপাচারকারীদের ভাষায় এই কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিরা পরিচিত ‘স্ক্যামার’ নামে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, এটি শুধু কম্বোডিয়ার সমস্যা নয়; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত একটি আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্র। জাতিসংঘের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের আনুমানিক এক থেকে দেড় লাখ মানুষ কম্বোডিয়ার বিভিন্ন কম্পাউন্ডে পাচার হয়ে আটকে আছেন। তারা ভালো চাকরির প্রস্তাবে প্রতারিত হয়েছেন। সেখানে তাদের শোষণমূলক পরিস্থিতিতে অনলাইন স্ক্যাম কার্যক্রমে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও লাওস মিলিয়ে সাইবার অপরাধী শ্রমশক্তির সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। আর রক্ষণশীল হিসাবেও আঞ্চলিক স্ক্যাম সিন্ডিকেটগুলোর বার্ষিক আয় ৫০ থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে,  কম্বোডিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রগুলো থেকে মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, নির্যাতন, শিশু শোষণ ও অন্যান্য নিপীড়নের ঘটনা। যদিও এসব কেন্দ্র কম্বোডিয়ার আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত হয়। তবু জানা গেছে, সিহানুকভিল ও রাজধানী নমপেনের মতো শহরে ক্যাসিনো, হোটেল, অফিস ভবন বা আবাসিক এলাকায় এগুলো প্রকাশ্যেই অবস্থিত। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনকারী সংস্থাগুলোর মতে, স্থানীয় কর্মকর্তাদের একাংশের দায়মুক্তি ও যোগসাজশ থেকেও লাভবান হচ্ছে এই চক্র।

বিশ্লেষকদের মতে, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও লাওসজুড়ে গড়ে ওঠা শত শত স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো মানুষ জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিত্যক্ত ক্যাসিনো, রিসোর্ট ও বহুতল ভবন ঘিরে গড়ে ওঠা এসব সুরক্ষিত সাইবার কলোনিতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তাকর্মী ও কাঁটাতারের বেড়ার কারণে বাইরের কারো প্রবেশ প্রায় অসম্ভব।

তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধচক্রের নেতৃত্বে রয়েছে চীনা বংশোদ্ভূত সংঘবদ্ধ মাফিয়া নেটওয়ার্ক। স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহযোগিতায় তারা বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে বহু বিদেশিকে উদ্ধার করেছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একটি কম্পাউন্ড বন্ধ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই অন্য এলাকায় নতুন কেন্দ্র গড়ে তুলছে চক্রটি।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইউথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানব পাচারের ভয়াবহতম রূপ নিয়েছে। দালাল চক্র চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করছে। তিনি জানান, কম্পিউটার, কল সেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমেÑ ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামেÑ প্রচার চালানো হয়। এরপর সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়। এ কারণেই সরকার ও ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এখনো অনেক বাংলাদেশি সেখানে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ থেকেই সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই মানবপাচার চক্রের নিয়োগ কার্যক্রম। প্রবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু বিদেশের মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না। দেশে বসে যারা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের পাচার করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। ইতোমধ্যে দেশে ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন এবং তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে কম্বোডিয়াগামী কর্মীদের ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

দেশে ফেরার পর ভুক্তভোগীদের জরুরি কাউন্সেলিং ও বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। ফিরে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, দালাল ও কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি কম্পিউটার অপারেটর বা কল সেন্টারের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর বৈধ চাকরির বদলে তাদের আটকে রাখা হয় সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে।

এ ব্যাপারে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. ওমর ফারুক বলেন, শুধু আটকে পড়া তরুণদের দেশে ফিরিয়ে আনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন পাচারের পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। তার মতে, বিদেশে চাকরির প্রতিটি অফার কঠোরভাবে যাচাই করা, ভিসার সত্যতা নিশ্চিত করা, দালাল ও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুন মাসে দেশে ফেরা ৫৮৩ তরুণ আসলে বিশাল এক মানবিক বিপর্যয়ের সামান্য অংশমাত্র। এখনো বহু বাংলাদেশি কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এটি শুধু মানব পাচার নয়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক দাস ব্যবসার এক ভয়ংকর রূপ। এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা না গেলে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে আরও অসংখ্য তরুণকে ঠেলে দেওয়া হবে অন্ধকার এক নরকপুরীতে। যেখান থেকে ফিরে আসার সৌভাগ্য সবার ভাগ্যে জোটে না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!