জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। এ দাবি তুলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে মানববন্ধনও করা হয়েছে।
১১-দলীয় ঐক্য ও জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের পক্ষে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়, যেখানে পাঁচ দফা দাবি ছিল। এর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও আছে। স্মারকলিপি দেওয়ার পর জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনের সামনে মানববন্ধন করে ১১-দলীয় ঐক্য।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় স্পিকারের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আমির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে জোটের নেতা ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে স্মাকরলিপি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
গেল বছরের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয়। পরের মাসে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, যে আদেশ অনুসারে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট হয়, তাতে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট পড়ে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।
রাষ্ট্রপতির ওই আদেশ অনুসারে, সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ২০৯ আসনে জয় পাওয়া বিএনপির প্রার্থীরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তারা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নেন। অন্যদিকে আলাদা করে উভয়শপথই নেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে চলে আসা মতবিরোধের ফারাক সেদিনই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায়। জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচিতে বিষয়টি নতুন করে সামনে আনল ১১-দলীয় ঐক্য।
মানববন্ধনে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার বিবেচনায় নেবে বলে আমরা আশা করি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করে এই পার্লামেন্ট চালাবেন, এটা জনগণ মানবে না। জনগণের মত উপেক্ষা করে চলবেন, এটা হতে দেবে না বাংলাদেশে। প্রয়োজনে ‘জুলাই বিপ্লব’ বাস্তবায়নে আরেকটি ‘জুলাই বিপ্লব’ হবে। আমরা রাজপথ ছাড়ছি না।’
সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান বলেন, ‘বিচার করতে হবে, না হলে জনগণ আপনাদের বাধ্য করবে। আপনারা শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় বসেছেন; আমরা সমাধান চাই।’
স্পিকারকে দেওয়া স্মারকলিপিতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের সই রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন