× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিচার হবে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির  হোতাদের বিচার হবে

শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে যেসব অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে, বর্তমান সরকার তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। এদিন তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানোসহ প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গড়ে তুলতে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকারের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

এদিন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর পক্ষে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য লিখিত প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতনের প্রধান কারণগুলো কী ছিল; শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না, জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তা উদ্ঘাটনে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজার কারসাজি এবং কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসংগতি, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ টাকা অর্থদ- আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বাড়ানো, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কর্মসূচিসমূহ মধ্যে রয়েছেÑ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ৪ জুন পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ দিয়েছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে। লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তীকরণে উদ্বুদ্ধ করা। এ ছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ারও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তীকরণের সুযোগ সৃষ্টিসহ আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিন সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো এবং বিকল্প কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিকÑ সব ফ্রন্টেই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে সে সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়েছিল এবং আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরেছিল। বর্তমান সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে।

এদিন  প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

একই সঙ্গে সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময় শুধু বিল্ডিং হয়েছে, কিন্তু হিউম্যান রিসোর্সের কোনো উন্নতি হয়নি। আমরা যদি আমাদের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষকদের সঠিকভাবে ট্রেনিং দিতে না পারি, শুধু ট্রেনিং নয়, ট্রেনিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্মানী যদি বাড়াতে না পারি, তাহলে আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের সেকেন্ডারি ও প্রাইমারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। এ কাজ অবশ্যই করব ইনশাআল্লাহ।’ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা সংসদকে জানান।

গতকাল বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এদিন দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।’

এ ছাড়া চীনে কাঁঠাল রপ্তানি প্রসঙ্গে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীন সফরে আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের দেশে যে কাঁঠাল, এটি অত্যন্ত পপুলার। চাইনিজ মানুষেরা খুব পছন্দ করে কাঁঠাল। আমরা এ দেশ থেকে তাদের কাছে কাঁঠাল রপ্তানি করব।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!